আমাদের জীবনে প্রযুক্তির ভয়াবহতা!
আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও উন্নত এবং সুন্দর করে তোলার জন্য প্রতিনিয়তই তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের প্রযুক্তি। আমাদের কাজের সময় কমিয়ে এনেছে এইসব প্রযুক্তি। কিন্তু সব-কিছুরই ভালো ও খারাপ দিক রয়েছে। সেভাবেই এইসব প্রযুক্তি আমাদের জীবনে ভাল ও খারাপ দুইভাবেই প্রভাব ফেলছে।
# অতিমাত্রায় আলোর দূষণ:
একজন জ্যোতির্বিদের মতে, আমেরিকায় ৪০ বছরের নিচের লোকেরা কখনো ঘুটঘুটে অন্ধকার দেখেনি।শহরাঞ্চলের লোকেরা সবসময় নিজ নিজ বাড়িতে উন্নত প্রযুক্তির লাইট ব্যাবহারে অভ্যস্ত। ওইসব শহরে “আকাশ ভাস” নামক এক ধরণের লাইট বাহিরে ব্যাবহার করা হয়। তাছাড়া, সারাদিনই আমরা টিভি দেখছি। এইসব আলোর কারনে আমাদের শরীরে খুব খারাপ ক্রিয়া সংঘটিত হয়। পদার্থবিজ্ঞানী এরিক ভান্দেরনুত এর মতে, মানুষের শরীরে আলো এবং অন্ধকারের একটি চক্র থাকে। আলোর প্রভাব বেশি পড়লে বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। ডায়াবেটিক, স্থুলতা, বিসন্নতা, প্রস্টেট ক্যান্সার এর ঝুঁকি বাড়ায়। এই আলোর কারনে আমাদের ঘুমেরও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগে আলো না থাকা অবস্থায় সবাই সূর্য ডুবার পর পরই ঘুমিয়ে যেত। কিন্তু এখন অনেক রাত পর্যন্ত আমরা জেগে থাকি। যা আমাদের স্বাস্থ্য খারাপ হবার অন্যতম কারন।
# চিনির মাত্রা বৃদ্ধি:
মিষ্টি বেশি খাওয়াটা মোটেও খারাপ কোন বিষয় নয়। গ্লুকোজ আমাদের শরীরের জন্য পর্যাপ্ত শক্তি যোগায় এবং আমাদের ব্রেইন এর জন্য চিনি খুবই ভালো জিনিস। কিন্তু সমস্যা হল আমরা এখন দিনে দিনে অধিক পরিমাণে চিনি খাবার অভ্যাস করছি। আমাদের পূর্বপুরুষেরা বিভিন্ন ফল ও শস্য থেকে শরীরের চিনির ঘাটতি মিটাতেন। কিন্তু আমরা ফল ও শস্য বাদ দিয়ে শুধু চিনি কিনে খাচ্ছি। এতে আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধছে। ১৯৭০ সালে মানুষ যখন জানতে পারে যে চিনিতে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট রয়েছে। তখন থেকে তারা চিনি খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে ফ্যাট ছাড়া চিনি আবিস্কার হলে সবাই আবার চিনি খাওয়া শুরু করেন। বেশি চিনির ফলে কলেস্টেরল, ডায়াবেটিক, স্থুলতা, বার্ধক্য, চামড়া ডিমেনশিয়া, মস্তিস্কের ক্ষতি, বিপাক ও যকৃতের ক্ষতি ইত্যাদি হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত চিনি ধূমপান এর থেকে বেশি ক্ষতিকর।
# নিদ্রার অভাব:
এখনকার সময় এর বেশিরভাগ মানুষের ঘুমের অনেক সমস্যা রয়েছে। গবেষকদের মতে, যারা দিনে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের মৃত্যু ঝুঁকি বেশি। যারা সঠিকভাবে রাতে ঘুমাতে পারে তাদের মৃত্যু ঝুঁকি কম। কম ঘুমের কারনে আমাদের ব্রেইন এর তথ্য মুছে যাবার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। প্রতিদিন নিওমিতভাবে ঘুমাতে হবে। নতুবা এর খারাপ দিকগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতির কারন হতে পারে।
# বিভিন্ন ধরণের ইলেক্ট্রনিক পণ্য:
মোবাইল যদি বার বার বেজে উঠে তাহলে আপনার ঘুমে এর প্রভাব পরাটা স্বাভাবিক। তাই সবার সময় যদি আসেপাশে মোবাইল বা ট্যাব নিয়ে ঘুমান তাহলে তো কথাই নেই। সারারাত আড্ডা দিয়েই কেটে যাবে আপনার। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের কারনে আপনার ঘুন শেষ। এতে না ঘুমানর জন্য তো বটেই, আবার মোবাইল এর আলো ও আপনার জন্য অনেক ক্ষতি বয়ে আনবে।
# অ্যান্টিবায়োটিক সাহায্যকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে:
আমরা বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করে থাকি। তবে এসব অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে আমাদের শরীরের অনেক কার্যকরী ব্যাকটেরিয়া ধংস হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে পরবর্তীতে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।
বিজ্ঞান আমাদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি তৈরি করেছে। কিন্তু তা আমাদের বিভিন্নভাবে ক্ষতির কারনও হয়ে দাড়িয়েছে। তাই প্রযুক্তিকে অবশ্যই আমরা ব্যাবহার করব, কিন্তু এর অপ-ব্যাবহার থেকে আমাদের সড়ে আসতে হবে। বিশ্বব্যাপী সকলকে এ ব্যাপারে সাবধান হতে হবে।
সম্পাদনা: ফাতেমা তুজ জোহুরা।
বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬৭৮৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬৭৮৬৭৭১৯০
মার্কেটিং ও সেলসঃ ০৯৬১১১২০৬১২
ইমেইলঃ [email protected]





পাঠকের মন্তব্য: