আত্মসম্মোহন জাতীয় পদ্ধতিতে শারীরিক ও মানসিক রিল্যাক্সজেশন আয়ত্ত
কয়েক বছর আগের কথা। বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয় একটি খবর। টেলিভিশনেও ফলাও করে প্রচার করা হয় সংবাদটি। জনপ্রিয় বিনোদনমূলক একটি অনুষ্ঠানে নিয়ে আসা হয় এমন এক ছাত্রকে, যার দুটি হাতই নেই। পায়ের আঙুল দিয়ে কলম ধরে লিখে সে। এভাবে লিখেই এসএসসি পাস করে কৃতিত্বের সঙ্গে। বিষয়টি সবাইকে অবাক করে। এটা কি করে সম্ভব! আপনারও তো পা আছে। আঙুলগুলোও একই রকম। আপনি কি পারবেন পায়ের আঙুল দিয়ে সেই ছেলেটির মতো লিখতে? ভাবছেন বড় কঠিন ব্যাপার!
আরেকটি কাজের কথা বলি। প্রতিদিনই বিভিন্ন তরকারি দিয়ে তৃপ্তি নিয়ে ডান হাতে ভাত খান আপনি। আজ একবার চেষ্টা করুন তো বাম হাত দিয়ে তা খেতে! প্রথম প্রথম কি ঘটবে আসলে। দেখবেন ঠিক মতো পারছেন না। খাবার পড়ে যাচ্ছে। বাম হাত মুখের কাছে নিতে গিয়ে কখনো ঠেকছে চিবুকে, কখনো নাকে। কেন পারছেন না? কারণ ওই ছাত্রটি তার পায়ের আঙুলকে ট্রেনিং দিয়েছে কলম ধরে লিখতে। আপনি দেননি। আপনার বাম আর ডান হাত মিলিয়ে দেখুন তো। কোনো পার্থক্য আছে কি? কোনো গরমিল বা ছোট-বড়? সবই তো একই রকম। তাহলে ডান হাত দিয়ে তৃপ্তির সঙ্গে ভাত খেতে পারলেও বাম হাত দিয়ে পারছেন না কেন! কারণ খাবার কাজটি করার জন্য জন্মের পর থেকেই আপনি ট্রেনিং দিয়েছেন আপনার ডান হাতকে, বাম হাতকে কখনোই দেননি।
আপনার যে অঙ্গকে যে কাজের জন্য ট্রেনিং দিয়েছেন, সেই অঙ্গ সেই কাজগুলোই সুন্দর-সুচারুভাবে করে দিতে পারে। অন্য কাজ ঠিকমতো করতে পারে না বা সমস্যা হয়। আপনি একজন মানুষ। ভেবে দেখুন তো আপনার কি আছে ? আছে একটি দেহ আর সঙ্গে একটি মন। এই দুই সম্পদ দিয়েই আপনি একজন স্বয়ংসম্পূর্ণ মানুষ। দুই সম্পদের একটিতেও যদি কোনো ঘাটতি থাকে তখন আপনি কি স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে দাবি করতে পারেন? উত্তরটা হয়ত আপনিই বলে দিবেনÑ নিশ্চয়ই নয়।
আপনি যে কাজটি করছেন, সেটি দেহ দিয়েই করছেন। আপনার হাত-পা-চোখ-কানসহ দেহের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গই সেই কাজের সঙ্গে যুক্ত। এসব কাজে অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে শিশুকাল থেকেই আপনি নানাভাবে ট্রেনিং দিয়ে আসছেন। ট্রেনিং দিয়ে তাকে চৌকষ করেছেন। কিন্তু আপনার আরেকটি সম্পদ! যার নাম মন। সেই মনকে কি আপনি কখনো ট্রেনিং দিয়েছেন? ভাবছেন এ আবার কেমন প্রশ্ন?
আপনি ভালো করেই জানেন, মনোযোগ না থাকলে কাজের উৎকর্ষ সাধন করতে পারবেন না। কারণ আপনার কাজ এবং দেহকে নিয়ন্ত্রণ করছে মন। মনের যতটুকু শক্তি আপনি কাজের সঙ্গে যোগ করতে পারছেন, তার ওপর নির্ভর করছে সেই কাজের সাফল্য। যে মনটি কখনোই আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকতে চায় না। তার ইচ্ছা মতো ছুটে চলে একদিক থেকে আরেক দিকে। এক বিষয় থেকে ভিন্ন বিষয়ে।
আপনি নামাজের জন্য দাঁড়িয়েছেন। অথচ মন সেখানে নেই। চলে গেছে একটা ব্যবসায়িক কাজে। কয়েকদিন পর ফাইনাল পরীক্ষা। পড়াটা রপ্ত করার জন্য চেষ্টা করছেন। অথচ মন ঘুরে বেড়াচ্ছে খেলার মাঠে কিংবা নদীর ধারে। আপনি রান্না করছেন বিশেষ কেউ আসবে বলে, আপনার মন ধারাবাহিক নাটকের ঘটনায় ঘুরপাক খাচ্ছে। স্থান-কাল-পাত্রের কোনো বালাই নেই, অতীত- বর্তমান-ভবিষ্যতের কোনো কথা নেই, মনটা ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। আপনার ইচ্ছায় চলছে না।
পৃথিবীতে অসম্ভব বলতে কিছু নেই
মনটা একেবারেই আপনার, অন্য কারো নয়। তাকে আপনি ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারছেন না কেন? কারণ মনকে নিজের মতো ব্যবহার করার প্রয়োজনীয় ট্রেনিং আপনি নেননি। অথচ কাজের সঙ্গে তাকে যুক্ত রাখাটা খুব প্রয়োজন। সে জন্যই চিনতে হবে আপনার মনকে। জানতে হবে শক্তি সম্পর্কে। আর রপ্ত করতে হবে মনের সেই শক্তি সঠিকভাবে কাজে লাগানোর কৌশল।
মনের অসীম সম্ভাবনাকে আবিষ্কার করতে পারাটা নিঃসন্দেহে আমাদের জীবনকালের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ও মহত্তম আবিষ্কার। মাইন্ড ট্রেনিংয়ের টেকনিকসমূহ আয়ত্ত করার মাধ্যমে আপনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক লক্ষ্য অর্জনের পথে তাকে কাজে লাগাতে সক্ষম হবেন।
জীবনের আকাক্সিক্ষত ফল পেতে চাইলে, কাজের সাফল্য অর্জন করতে হলে, মনের মতো জীবনযাপন করতে চাইলে মনের শক্তিকে কাজে লাগানোর টেকনিক ব্যবহার করে আপনি বিব্রতকর সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করতে এবং তার সমাধান বের করতে পারবেন। মাইন্ড ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তোলার কাজ শুরু করতে পারেন। যেকোনো ধর্মের মানুষ, বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী সবাই এটা চর্চা করতে পারে।
ধ্যানের মাধ্যমে মাইন্ড ট্রেনিংয়ের এ পদ্ধতিটি রপ্ত করে নিয়েছেন সাধু-সন্ন্যাসীরা। আত্মসম্মোহন জাতীয় পদ্ধতিতে শারীরিক ও মানসিক রিল্যাক্সজেশন আয়ত্ত করছেন তারা। সেই সঙ্গে মনের চোখে পরিষ্কার ছবি ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা অর্থাৎ নিজেদের মধ্যে সচেতনভাবে কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটাচ্ছেন। ফলে তাদের আয়ত্তে আনা এই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এমন কিছু করে ফেলছেন যা আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য কিংবা অলৌকিক ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। আপনি যখন মনকে ব্যবহার করার ট্রেনিং নেওয়া শুরু করবেন, তখন ধীরে ধীরে জানবেন এর শক্তি সম্পর্কে। অবাক হবেন। কারণ অন্যের কোনো ক্ষতি না ঘটিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করার শক্তি আপনার মনের রয়েছে।
প্রশ্ন আসতে পারে, কতটা সময় দিতে হবে এর জন্য? নিয়মিত মাত্র কয়েক মিনিটের অনুশীলনের মধ্য দিয়ে এই নতুন জ্ঞান এবং দক্ষতাকে নিজের আয়ত্তে আনতে পারবেন।
আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে রয়েছে নানা সমস্যা। চাই এই সমস্যাগুলোর সুস্পষ্ট সমাধান এবং রোগহীন চিন্তামুক্ত জীবন। না পাওয়ার বেদনা আমাদের করে তুলেছে অস্থির। ফলে আমরা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছি আত্মবিশ্বাসটুকু। মনের স্বপ্নগুলো স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। অপরের ভালো ও কল্যাণের কথা চিন্তা করার মানসিক সক্ষমতা আমাদের মাঝে লোভ পাচ্ছে প্রবলভাবে। ক্রমেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে মানবতার বোধটুকু। নিজের মানসিক শক্তির ওপর বিশ্বাস থাকছে না বিন্দুমাত্র।
এখনই সময় নিজেকে জানার। জীবনের বাকি সময়টুকু শ্রেষ্ঠ সময়রূপে গড়ে তোলার। তাই হতাশা-ব্যর্থতা আর দুঃখবোধগুলোকে জেটিয়ে বিদায় করে দিন। মাইন্ড ট্রেনিং নিয়ে হয়ে উঠুন পরিশুদ্ধ, তারুণ্যদৃপ্ত, সফল ও প্রাণবন্ত এক পজেটিভ মানুষ।
লেখক : ইন্টারন্যাশনাল মাইন্ড ট্রেনার ও কান্ট্রি ডাইরেক্টর, সিলভা আল্ট্রামাইন্ড ইএসপি সিসটেম
বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬৭৮৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬৭৮৬৭৭১৯০
মার্কেটিং ও সেলসঃ ০৯৬১১১২০৬১২
ইমেইলঃ [email protected]





পাঠকের মন্তব্য: