ইতিহাসের অবিস্মরণীয় ভালোবাসার কাহিনী (ছবিসহ)

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০৪:০২ এএম

ইতিহাসের পাতায় পাতায় বিভিন্ন ভালোবাসার কাহিনী গাঁথা রয়েছে। সময়ের সাথে সাথে ভালোবাসা প্রকাশের পদ্ধতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। এমন কিছু সত্যিকার ভালোবাসার গল্প রয়েছে যার ব্যাপারে আমরা আজও গল্প করে থাকি। তাদের ভালোবাসাকে সালাম ও শ্রদ্ধা করে থাকি। আজ আমরা সে সকল বিখ্যাত ভালোবাসার ইতিহাস স্মরণ করবো-

১. বাজিরাও ও মাস্তানি:
বিভিন্ন ধরণের ইতিহাস নিয়ে সিনেমা করার প্রথা অনেক আগে থেকেই চালু রয়েছে। বাজিরাও ও মাস্তানির ভালবাসা নিয়ে খুব শীঘ্রই বলিউডে দীপিকা ও রানবীর সিং অভিনীত সিনেমা মুক্তি পেতে চলেছে। মাস্তানি এই কাহিনীর নায়িকা। তাকে নিয়ে দুইটি ভিন্নমত আছে। কেউ বলেন মাস্তানি হায়দ্রাবাদের রানী ছিলেন আবার কেউ বলেন তিনি নর্তকী ছিলেন। বাজিরাও মাস্তানিকে অনেক ভালবাসতেন। সে যাই ছিলেন, বাজিরাও এর সাথে তার আত্মার সম্পর্ক ছিল। বাজিরাও এর যুদ্ধের ময়দানে মৃত্যু হলে মাস্তানিও আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মহত্যা করেন।

২. বনি এবং ক্লাইড:
বনি এবং ক্লাইড কীভাবে মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারে আপনি যদি তা ভেবে থাকেন তাহলে আগে কাহিনী জেনে নিন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের খুব ভাল ডাকাত ছিলেন এবং তাদের কাজ দেখে সবাই ভীত হয়ে যেত। সারাজীবন তারা একসাথে সকল চুরি-ডাকাতির কাজ করেন। পুলিশ তাদের ধরার জন্য অনেক সাধনা করেছেন। তখন তাদের এই কাহিনী ভালবাসার কোন সম্পর্ক হিসেবে পরিচিত ছিল না। তাদের গ্যাং এর সদস্যরা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে পুলিশ তাদের ধরতে পারে। পুলিশ তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। ক্লাইডের মৃত্যুর পর বনির শেষ ইচ্ছা থাকে তার সঙ্গীর সাথে মারা যাওয়া। ক্লাইডের নিষ্প্রাণ দেহের উপর বনিও মারা যায়।

৩. শাহজাহান ও মমতাজ:
যারা প্রেম কাহিনীর বিষয়ে একদম জানেন না, তারাও শাহজাহান ও মমতাজের ভালবাসার কথা জানেন। পৃথিবীর বুকে তাদের স্মৃতিচিহ্ন আজও তাদের ভালবাসাকে অমর করে রেখেছে। শাহজাহানের তিনজন স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাদের মাঝে মমতাজকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসতেন। মমতাজ তাদের ১৪তম সন্তানকে জন্মদানের সময় মারা যান। মমতাজের মৃত্যুর পর শাহজাহান তার স্মরণে তাজমহল তৈরি করেন। যা আজও সকলের জন্য দর্শনীয় স্থান ও ভালবাসার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

৪. কুইন ভিক্টোরিয়া এবং প্রিন্স আলবার্ট:
ভিক্টোরিয়ার তরুণ বয়সেই জার্মান রাজকুমার আলবার্টের সাথে প্রথম সাক্ষাৎ হয়। তাদের বিবাহ হয়। তারা মধ্যবিত্ত পরিবারের মত জীবনযাপন করতেন। ২১ বছরের দাম্পত্যের জীবনে তাদের ৯ টি সন্তান হয়। ১৯৮১ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগে আলবার্ট মারা যান। এরপর থেকে ভিক্টোরিয়া কালো পোশাক পরিধান করতেন এবং মাথায় তার বিয়ের পোশাকের ঘোমটা পড়ে থাকতেন।

৫. অষ্টম এডওয়ার্ড ও ওয়ালিস সিম্পসন:
১৯৩১ সালে ইংরেজি সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ওয়েলসের এডওয়ার্ড, একটি আমেরিকান তালাকপ্রাপ্ত নারি ওয়ালিস সিম্পসন এর প্রেমে পড়েন। ১৯৩৬ সালে এডওয়ার্ডের পিতা মারা যাবার পর তিনি রাজা হন। কিন্তু তার সিম্পসনকে বিয়ে করার পরিকল্পনার কারণে তিনি সঠিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। সিম্পসনের পূর্বে দুইবার তালাক পাবার কারণে এডওয়ার্ডকে বিয়ে না করার জন্য উপদেশ দেয়া হয়। কিন্তু সে সম্পূর্ণ রাজ্যের সাথে লড়াই করে সিম্পসনকে বিয়ে করেন।–সূত্র: ইন্ডিয়া টাইম্‌স।


সম্পাদনা: ফাতেমা তুজ জোহুরা।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: