ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৯

সম্পাদনা: মো: হৃদয় আলম

ডেস্ক এডিটর

অপরাধ না করেও বাংলাদেশির কোমরে দড়ি

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৯:৫০:০০

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এক বাংলাদেশীর কোমড়ে দড়ি বাঁধা ও হাতে হাতকড়া পরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ছবি। ওই ব্যক্তি জাপানে অভিবাসন প্রত্যাশী ছিলেন। ভাইরাল হওয়া ছবিটি গত বছরের অক্টোবরে তুলেছিলেন আশাহি ওডা নামে প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি জানান ওই ব্যক্তির নাম মারুফ আবদুল্লাহ (৩৬)।

জাপানের অভিবাসন ব্যুরোর দাবি, আইন মন্ত্রণালয়ের অধ্যাদেশ মেনেই আটকদেরকে হাতকড়া ও দড়ি পরায় তারা। তবে এ হাতকড়া ও দড়ি পরানোর দৃশ্য যেন জনপরিসরের সামনে না আসে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকেন তারা।

আইন মন্ত্রণালয়ের সংশোধন ব্যুরো বলছে, জনসমক্ষে যেন এমন ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাসপাতালে ইউনিফর্ম না পরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে। তাছাড়া আটক ব্যক্তিকে সাধারণত হাসপাতালের পেছন দিকের দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে বলা হয়।

তবে, দেশটির অভিবাসন কেন্দ্রগুলোতে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন দুর্ধর্ষ অপরাধীর মতো আচরণ মেনে নিতে পারছেন না অনেকে।

এসওয়াইআই পিংকি ড্রাগন নামে এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘জাপানের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ থেকে আসা এক অভিবাসন দপ্রত্যাশীকে কোমরে দড়ি বাঁধা এবং হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় হাসপাতালে যেতে বাধ্য করেছে। এভাবে অপমান করা হয়েছে তাকে।’

মারুফ আব্দুল্লাহর জানান, তিনি চান তার মতো মানুষদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করা হয় তা জনগণ জানুক। তিনি বলেন, ‘আমি অপরাধী নই।’ হাতকড়া ও দড়ি পরানোকে অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জানা যায়, হাতকড়া পরানো অবস্থায় মারুফ আব্দুল্লাহ (৩৬) নামে এক বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেছেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। সেখানে অভিবাসন প্রত্যাশী মারুফের কোমরে বাঁধা দড়িটিকে ধরে রাখে এক কর্মকর্তা।

জাপানে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন সেদেশের চিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ স্কুলের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনবিষয়ক অধ্যাপক ইয়াসুজো কিতামুরা।

জাপান টাইমসকে তিনি বলেন, ‘যতটা সম্ভব অভিবাসন কেন্দ্রে আটক থাকাদের মানবাধিকারের সুরক্ষা দিতে হবে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির যেমন সুরক্ষা দেয়া হয় তেমন কিংবা তার চেয়েও বেশি সুরক্ষা আটককৃত অভিবাসন প্রত্যাশীদের দিতে হবে।’

জাপানে বৈধ ভিসাহীন অভিবাসন প্রত্যাশীদেরকে অভিবাসন কেন্দ্রে আটক রাখা হয়। সেখানে রেখেই তাদের বিতাড়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষ। যারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারে না এবং যারা অনেকবার অভিবাসনের জন্য আবেদন করে ব্যর্থ হয়েছে, তাদেরকে আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৯৫ সালে এক আসামিকে হাতকড়া পরিয়ে হাসপাতালে নেওয়ায় ওই বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ তিয়েছিল ওসাকা ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট।

সে সময় বলা হয়েছিল, ওইভাবে বেঁধে নিয়ে যাওয়ায় আসামির ব্যক্তিগত অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। পরে আদালতের ওই রুলটি বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

সর্বশেষ

এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বিডি২৪লাইভ মিডিয়া (প্রাঃ) লিঃ, বাড়ি # ৩৫/১০, রোড # ১১, শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর, ঢাকা - ১২০৭, 
ই-মেইলঃ info@bd24live.com, 
ফোন: ০২-৫৮১৫৭৭৪৪

বার্তা প্রধান: ০৯৬১১৬৭৭১৯০
নিউজ রুম: ০৯৬১১৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্ক: ০১৫৫২৫৯২৫০২
ই: office.bd24live@gmail.com

Site Developed & Maintaned by: Primex Systems