দেশের সবচেয়ে বড় ডেগ, রান্না হবে ১০১ মণ খাবার

প্রকাশিত: ২৮ আগষ্ট ২০১৯, ০২:৪৫ পিএম
বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ডেগ তৈরি হয়েছে মানিকগঞ্জ জেলায়। ডেগটি ওজনের প্রায় ৭০০ কেজি। দুইজন মিস্ত্রী ৩ মাস ধরে তৈরি করেছে এ বিশাল আকৃতির ডেগটি। প্রথমে দেখলে মনে হবে এটি একটি ছোট কারখানার, মা‌ঝেখানে বড় একটা পাত্র (ডেগ) বসা‌নো হয়েছে, যা রান্নার জন্য ব্যবহৃত হবে। ডেগটির ভেতরে কোন কিছু দিতে হলে উপ‌রে উঠে দিতে হ‌বে। ওই ডেগে রান্না করার সময় নাড়াচাড়া করতে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে একটি মোটরের যন্ত্র। আবার খাবার তুলতে ভেকুর মতো আরেকটি যন্ত্র বানানো হয়েছে। এছাড়া ডেগটিতে রান্না করতে তৈরি করা হয়েছে ১২ হাজার ইটের তৈরি বিশেষ ধরনের চুলা। চুলায় জ্বালানি দেয়ার মুখটি এক‌টি সুর‌ঙ্গের ম‌তো দেখ‌তে মনে হবে। নিরাপত্তা জন্য ডে‌গের চুলাটির পা‌শে বাশ দি‌য়ে বেড়া তৈরি করা হয়েছে। মানিকগঞ্জে দেশের সব চেয়ে বড় ডেগ তৈরি হয়েছে। যাতে রান্না করা যাবে ১০১ মণ খাবার। ২৭ আগস্ট ও ২৮ আগস্ট জৌনপুরী খলিফা শাহ সূফি হযরত মাওলানা মরহুম মাগফুর এখলাছ উদ্দীন কু: (রহ.) এর প্রতিষ্ঠিত ৯৯ তম বাৎসরিক ওরশ শরিফে মানিকগঞ্জের ঘিওরের জাবরা ইমামবাড়ি দরবার শরিফে প্রথমবারের মতো রান্না হবে এ ডেগটিতে। এর ২ বছর আগে ওর‌শের সময় ডেগ‌টি‌তে রান্না করার চেষ্টা করা হ‌য়ে ছিল কিন্তু চুলা তৈ‌রি না হওয়ায় তা সম্ভব হয়‌নি। এখন থে‌কে প্রতি বছর শুধুমাত্র ওরশে রান্না করতে তৈরি করা হয়েছে এত বড় ডেগটি। ডেগ তৈরি শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন শত শত মানুষ ডেগটি দেখতে আসছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সব চেয়ে বড় প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এ ডেগটি তৈরি করতে যে টাকা খরচ হয়েছে তা দিয়েছে দরবারের ওরশ কমিটি, ভক্ত ও সাধারন জনগণ। ডেগ তৈরি করতে ঢাকা থেকে মিস্ত্রী আনা হয়। দুইজন মিস্ত্রী ৩ মাস ধরে তৈরি করেছে এ বিশাল আকৃতির ডেগটি। এ বিষয়ে জাবরা ইমাম বাড়ি দরবার শরিফের ওরশ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম জানায়, এটি বর্তমানে বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ডেগ। ডেগটির উচ্চতা সাড়ে ছয় ফুট। এর মুখের চারপাশের আয়তন ছয় ফুট দুই ইঞ্চি। আর মাঝামাঝি চারপাশের আয়তন সাত ফিট। ডেক এর ওপর দিকে মাঝ বরাবর চারকোণে চার পাশে রিং রয়েছে। যার প্রতিটির ওজন প্রায় চার কেজি করে। ডেকটি স্থানান্তর করার সময় এই রিং এর ভেতর বাঁশ জাতীয় কোনো কিছু দিয়ে ধরে সরাতে হয়। ডেকটি স্থানান্তরে পূর্ণবয়ষ্ক ৪০ থেকে ৪৫ জন লোক লাগে। প্রতিদিন ডেগটি দেখতে শত শত মানুষ আসে। জানা যায়, ডেগটির ওজন প্রায় ৭০০ কেজি। ডেগটি তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়েছে পাঁচ মিলি স্টিলের ১১৩ কেজি করে ওজনের পাঁচটি সিট, ঝালা দিতে লেগেছে ২০ কেজি রড, ডেগটির কানধিতে ব্যবহৃত হয়েছে ১৮ কেজির স্টিল, আর ডেগটির চার কোণে ১৬ কেজি কয়রা লাগানো রয়েছে। আর ডে‌গের জন্য তুলা তৈরি করতে লে‌গে‌ছে প্রায় ১২ হাজার ইট। তুল‌া তৈ‌রি‌তে সময় লে‌গে‌ছে ৪ মাস। ওরশ কমিটির সভাপতি ওরশ কমিটির সভাপতি মো: রাজা মিয়া জানায়, ডেকটি তৈরি করা হয়েছে শুধুমাত্র ওরশের সময় তবারক রান্না করতে। ডেগটিতে ওরশের সময় খিচুড়ি রান্না করা হবে। জাবরা ইমাম বাড়ি দরবার শরিফের পীর সাহেব হযরত মাওলানা খাজা আবুল কালাম আজাদ চিশতি জানান, আধ্মাতিকভাবে ধ্যান করার সময় তিনি এ রকম একটি বড় ডেগ তৈরির নির্দেশনা পান। পরে ভারত উপমহাদেশের আওলিয়া খাজা মইনুদ্দিন হাসান চিশতির মাজার শরিফের খাদেম হজরত খাজা আহম্মেদ আলী চিশতির নিদের্শক্রমে এই ডেগ তৈরি করা হয়। এ ডে‌গে একবার রান্না করা খাবার ৫ হাজার লোক খে‌তে পার‌বে। এটি বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ডেগ। এত বড় ডেগ আর বাংলাদেশে নেই।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: