না ফেরার দেশে চলে গেলেন কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক মোশাররফ করিম। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ১১ জানুয়ারি শনিবার রাতে সোয়া ১০টার দিকে ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার পায়ের দুইটি আঙুল অস্ত্রোপচার করে অপসারণ করা হয়েছিল।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) বাদ যহোর চরপাড়াস্থ্য জামিয়া ইসলামিয়া মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ভাটিকাশর পৌর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন এই কবি। এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) ছিল কবি মুশাররাফ করিম'র ৭৫তম জন্মদিন। তিনি ১৯৪৬ সালে জন্মগ্রহন করেছিলেন।
মোশাররফ করিম'র গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার খৈরাটি গ্রামে। তিনি ময়মনসিংহ নগরীর সেহরার বড়বাড়িতে মোশাররফ করিম'র জন্ম। পিতার মৃত এম. এ. করিম ও মাতার নাম আমিনা খাতুন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী সখিনা আক্তার, এক কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তিনি ময়মনসিংহের এডওয়ার্ড ইন্সটিটিউশন থেকে ১৯৬৪ সালে এসএসসি, নাসিরাবাদ কলেজ থেকে ১৯৬৭ সালে মানবিকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং একই কলেজ থেকে ১৯৭২ সনে স্নাতক পাস করেন। ১৯৭৪ সনে আনন্দমোহন কলেজ ময়মনসিংহ থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর শেষ করেন।
কবি মুশাররাফ করিম ষাটের দশকের আয়ুববিরোধী ছাত্রগণ আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও তিনি ময়মনপসিংহ সাহিত্য সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও নেত্রকোনার বিরিশিরির উপ-জাতীয় কালচারাল একাডেমির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কবি ও সাংবাদিক মুশাররাফ করিমের উত্থান দৈনিক দেশ পত্রিকার মাধ্যমে। সেখানে তিনি সহ-সম্পাদক ছিলেন। দৈনিক দেশ-এ বর্ষীয়ান সম্পাদক সানাউল্লাহ নূরীর নেতৃত্বে একদল মেধাবী সাংবাদিক-লেখক সংযুক্ত হয়েছিলেন।
পরবর্তীতে মুশাররফ করিম বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করলেও দৈনিক দেশ পত্রিকার ইমেজই তাকে পরিচিত করেছে। রাজনৈতিকভাবে তিনি ছিলেন বিএনপি ঘরানার মানুষ। তদুপরি তার সঙ্গে সকল দল ও মতের মানুষের আন্তরিক সম্পর্ক ছিল।
শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০০৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও জিয়া স্মৃতি পুরস্কার, জিয়া স্মৃতি পদক, কালচক্র স্বাধীনতা পদক, পূরবী স্বাধীনতা পদক, ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব পদক, জিয়া মেমোরিয়াল এওয়ার্ড (১৯৯৭), রূপালী তারার মেলা শিশু পুরস্কার, জিসাস সাহিত্য পুরস্কার, স্বদেশ-সমাজ সাহিত্য পুরস্কার, অগ্নিসেনা সাহিত্য পদক, ব্রহ্মপুত্র সাহিত্য পুরস্কার, সময় নৃত্যকলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
মুশাররাফ করিমের কাব্যগ্রন্থ: পাথরের পথে (১৯৮২), অন্য এক আদিবাসে (১৯৮৪), সে নয় সুন্দরী শিরিন (১৯৮৭), কোথায় সেই দীর্ঘ দেবদারু (১৯৯০), নিবেদনের গন্ধঢালা (১৯৯২), অন্তরের ব্যাকুল ব্যাধি (১৯৯৭), কে আছে, কেউ কি আছে (২০০২), নির্বাচিত কবিতা (২০০২), ঘাসের ডগায় হলুদ ফড়িঙ (১৯৯৯)।
উপন্যাস: পূর্ব-পুরুষগণ (২০০২), প্রথম বৃষ্টি (২০০২), স্বপ্নকাব্য, উপন্যাসত্রয়ী (২০০২)।শিশুসাহিত্য: কোকাকাকা (১৯৯৫), লেবেনডিশ (১৯৭৭), ছক্কা মামার গালগল্প (২০০২), বোগাস ভুত (২০০২), গু ফর নাতিন (২০০২), নীলগঞ্জের ভূত, টম সাহেবের অদ্ভুত বাড়ি, নিঝুমপুরের পোড়োবাড়ি, চোরাগুহার রহস্য, ভয়ংকর ছেলেধরা, কিশোর উপন্যাস সমগ্র (২০০২)।
পাঠকের মন্তব্য: