
গাজা শহরের দক্ষিণাঞ্চলীয় Zeitoun (যেইতান) এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী সব ভবন ধ্বংস করে দিয়েছে। স্থানীয় প্যালেস্টাইনিয়ান সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, শুধু Zeitoun ও পার্শ্ববর্তী Sabra এলাকায় আগস্ট মাসেই এক হাজারের বেশি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এলাকার প্রায় আশি শতাংশ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
ধ্বংসযজ্ঞে শুধু আবাসিক ভবন নয়, স্কুল, মসজিদ, পানির লাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকর্মীরা। কিন্তু ধারাবাহিক হামলা ও অবরোধের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, গাজায় যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা “মানবতার বিরুদ্ধে সচেতনভাবে পরিচালিত একটি পরিকল্পনার ফল।” তিনি অভিযোগ করেন, সহায়তা পৌঁছানোর পথ বারবার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে, যার ফলে ক্ষুধা, অপুষ্টি ও মৃত্যুর ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, গাজার প্রাণবন্ত ও ঐতিহাসিক Zeitoun এলাকা এখন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এতে শুধু মানুষের ঘরবাড়ি নয়, পুরো একটি সম্প্রদায়ের স্মৃতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক কাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজার অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরণের ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। Shuja’iyya ও Sabra পাড়ায়ও হাজার হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গড়ে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য খাত ইতোমধ্যেই প্রায় ভেঙে পড়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের সংকট চরমে পৌঁছেছে। খাদ্যাভাব ও অপুষ্টির কারণে শিশু মৃত্যুর হার দ্রুত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রায় ১৯ হাজার শিশু ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়। তবে রাজনৈতিক জটিলতা ও অবরোধের কারণে কার্যকর সহায়তা গাজায় পৌঁছাতে পারছে না। গাজা শহরজুড়ে এখন ধ্বংসস্তূপ, ধোঁয়া আর মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র বিরাজ করছে।
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর