
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাইফুল ইসলাম টিপু দিন-রাত এই আসনের গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার চষে বেড়াচ্ছেন। ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী এই নেতা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন বিএনপির বার্তা। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নে গণসংযোগে নামেন তিনি।
স্থানীয় হাট-বাজারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং আড্ডার পর পথসভায় বক্তৃতা করে তিনি বলেন, "আপনারা যদি সমর্থন দেন, আর তারেক রহমান যদি প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে দেশের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হবে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে এ দেশের ১৮ কোটি মানুষ নিরাপদে থাকতে পারবে।" এসময় তিনি খালেদা জিয়ার জন্য সকলের কাছে দোয়াও চান।
টিপু আরও বলেন, "আমি এমপি-মন্ত্রী হই বা না-হই, শুধু যদি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হন তাহলেও লালপুর-বাগাতিপাড়ার উন্নয়নে পাশে থাকব। ইতোমধ্যেই বাগাতিপাড়া স্টেডিয়ামের জন্য অর্থ বরাদ্দ, বড়াল নদ খনন, কয়েকটি সড়কের টেন্ডার অনুমোদন এবং কুটির শিল্পে নারীদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছি।" তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে লালপুর-বাগাতিপাড়ায় শিল্প পার্ক গড়ে তোলা হবে, যাতে স্থানীয় বেকার সমস্যার সমাধান হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, টিপুর গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। বাজারে, মাঠে, চায়ের দোকানে টিপুকে ঘিরে কৌতূহলী ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে এগিয়ে আসেন। এক বৃদ্ধ তাকে মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে বলেন, "তুমিই মনোনয়ন পাবে, আমরা তোমাকেই চাই।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টিপুর ধারাবাহিক গণসংযোগ ও সরব উপস্থিতিতে নাটোর-১ আসনে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছেন টিপু। স্থানীয় তরুণ কর্মী আশরাফুল আলম বলেন, "আমরা দেখছি উনি শুধু প্রতিশ্রুতিই দেননি, দল ক্ষমতায় না আসতেই বেশ কিছু কাজ করেছেন। তাই এবার উনার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে।"
নাটোর-১ আসনের রাজনীতিতে তাইফুল ইসলাম টিপু এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় তার অবস্থান কোথায় হবে সেটিই এখন সবার আগ্রহের বিষয়। তার গণসংযোগে সাথে ছিলেন সাবেক উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদ্য সাবেক মেয়র শরিফুল ইসলাম লেলিন, সাবেক পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শামীম সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও দয়ারামপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আনসার আলী সরকারসহ কয়েক হাজার নেতা কর্মী।
সর্বশেষ খবর