ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফলে চারটিতে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এবং একটিতে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা তার কার্যালয়ে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফল ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) এ আসনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাজেদুর রহমান পোস্টালসহ ১২৪ কেন্দ্রের ফলাফলে ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৯৭ ভোট। জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের শামীম হায়দার পাটোয়ারী পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৭৬ ভোট।
গাইবান্ধা-২ (সদর) সদর আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল করিম ১১৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১ লাখ ২১ হাজার ৯৮ ভোট এবং পোস্টাল ব্যালটে ১ হাজার ৫৫৭ ভোটসহ মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আনিসুজ্জামান খান বাবু পেয়েছেন ৯১ হাজার ৩০৩ ভোট এবং পোস্টাল ব্যালটে ১ হাজার ৫৭৭ ভোটসহ মোট ৯২ হাজার ৮৮০ ভোট।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) এ আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম পোস্টালসহ ১৪৭ কেন্দ্রের ফলাফলে ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাঈনুল হাসান সাদিক পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৪ ভোট।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) জেলার একমাত্র আসন যেখানে বিএনপি জয় পেয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শামীম কাওছার (লিংকন) ১৪২টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুর রহিম সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ২০০ ভোট। এই আসনের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে জামায়াত প্রার্থী আব্দুর রহিম সরকার ও তার সমর্থকরা ভোট ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে কার্যালয় এলাকায় হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। পরে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কয়েক ঘণ্টা বৈঠকের পর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণা করেন। জামায়াত প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ভোটগ্রহণ চলাকালে গোবিন্দগঞ্জের পাঁচটি কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে এবং বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) এ আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল ওয়ারেছ পোস্টালসহ ১৪৭ কেন্দ্রের ফলাফলে ৮৯ হাজার ২৭৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ফারুক আলম সরকার পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৮৩ ভোট।
রাত সোয়া ১টার দিকে সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা নিজ নিজ আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন। পরে রাত ২টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা পাঁচটি আসনের সমন্বিত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।
জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে জামায়াতের জয় এবং একটিতে বিএনপির বিজয়—গাইবান্ধার রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর