বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের আমির (চরমোনাই পীর) সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, "গণভোটের পক্ষে সব রাজনৈতিক দল একাত্মতা প্রকাশ করেছে। আমরা সবাই চেয়েছি জাতীয় নির্বাচনের আগে আর বিএনপি বলছে নির্বাচনের দিন। আমরা এটাও বলবো এটা একটা দুষ্টামি।
এর কারণ হলো— এই নির্বাচনটা বৈধতা পাবেই হলো জাতীয় সনদ আইনি ভিত্তি পাওয়ার পরে। এই জাতীয় সনদ যদি আইনি ভিত্তি না পায় এই নির্বাচন কিন্তু আইনের দিক থেকে বৈধতা পাবে না। এই সরকার বৈধতা পাবে না। এবং আমরা যারা জুলাই যোদ্ধা ছিলাম, আমরা যারা রাস্তায় ছিলাম এই বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি আমাদের ফাঁসি ফাঁসি! এজন্য সর্বপ্রথম আমাদের জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে। তারপরে জাতীয় নির্বাচন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। যেনতেনও নির্বাচনের জন্য হাজার হাজার মায়ের কোল খালি হয় নাই।"
সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পাঁচ দফা দাবিতে গণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, "শত শত মানুষ, উদীয়মান আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, মেধাবী মেধাবী সন্তানগুলো–চক্ষু হারিয়েছে আর কোনোদিন আলো দেখবে না। তারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে আর এইটাই কি আমরা দেখার জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান করেছি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান বলেছেন রাজনৈতিক দলগুলো আপনারা বসেন, একত্রিত হন। এক সপ্তাহের ভিতরে আপনারা আমাদের ভালো একটা ফলাফল দেন।"
চরমোনাই পীর বলেন, "বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৪ বছর চলে। কিন্তু যাদের মাধ্যমে দেশ চলেছিল তাদের মাধ্যমে একবার দুইবার নয় পাঁচবার সারা দুনিয়ায় চোরের দিক থেকে, দুর্নীতির দিক থেকে প্রথম হয়েছে। এদের দেশ পরিচালনায় হাজার হাজার মায়ের কোল থেকে সন্তানকে হারাতে হয়েছে। আমাদের দেশের টাকাগুলো বিদেশে পাচার করে বেগমপাড়া তৈরি করেছে। সদ্য বিদায়ী আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট সরকার- তার যে ভূমি মন্ত্রী ছিল সেই ভূমি মন্ত্রীর তিনটা দেশের মধ্যে ৬২০ টা বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেল। তার মূল্য প্রায় ৫ হাজার ৭'শ কোটি টাকা। এই টাকাগুলো তার বাপে রেখে যায় নাই, তার দাদায় রেখে যায় নাই। ক্ষমতার চেয়ারে বসে আমাদের টাকাগুলো বিদেশে পাচার করে আমাদের দেশকে দেউলিয়ায় পৌঁছে দেয়ার পরিবেশ তৈরি করেছে।"
তিনি বলেন, "আজকে যারা গর্ব করেছে যে হাসিনা পালায় না। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আর আপনাদের দোয়া চেষ্টায় ভাত পাক করে খেয়েও যেতে পারে নাই। আমার মন বলছে এত বড় একটা তাগুদি শক্তি মুহূর্তের ভিতর পালাতে বাধ্য হলো আবার কোন চাঁদাবাজ, আবার কোন ফ্যাসিস্ট, আবার কোন জালেম আমাদের দেশকে নিয়ে তালবাহানা করছে। যারা বিদেশের তাবেদারি করছে। মায়ের কোলকে সন্তান হারা করার যারা স্বপ্ন দেখছে ওরা আর মস্তদে আসতে পারবে না সে ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।"
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো. নিজাম উদ্দিনের সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মানিকগঞ্জ–৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা সামসুদ্দিন, মানিকগঞ্জ–২ (হরিরামপুর ও সিংগাইর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী, মানিকগঞ্জ–১ (ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়) আসনের সংসদ সদস্য মো. ফরিদুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির কামরুল ইসলাম প্রমুখ।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর