নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী,দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শিক বিচ্যুতির গুরুতর অভিযোগসহ ৭ কারন উল্লেখ করে পদত্যাগ করলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সেক্রটারি রুহুল আমিন ও উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ফেরদৌস আলম।
সোমবার বিকেলে সুনামগঞ্জ শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে। তাদের দাবি, নৈতিক অবস্থান থেকে এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে সংহতি জানাতেই তারা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে দুই নেতা আরও উল্লেখ্য করেন, ১ আসনে মনোনয়ন বৈষম্য,জুলাই চেতনা থেকে দূরে সরে যাওয়া,দলীয় প্রার্থীর লোকেরা চাঁদাবাজি বালু লুঠপাটে জড়িয়ে যাওয়াসহ সাত কারনে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার পদত্যাগ
দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক পথচলার ইতি টেনে তারা দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শিক বিচ্যুতির গুরুতর অভিযোগ তুলে জানান, ২৫ বছর আগে সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেনের হাত ধরে বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে তারা জাতীয়তাবাদের আদর্শে অবিচল ছিলেন। গত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনামলে জেল-জুলুম, নির্যাতন এবং আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েও দল ত্যাগ করেননি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপির কিছু প্রভাবশালী নেতা লুটপাটসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। যাদুকাটা বালুমহালে লুটপাট, রক্তি,পাটলাই,বৌলাই নদীতে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি। নদী তীরবর্তী ঘাগটিয়া গ্রামের বাঁশঝাড় এলাকা সহ প্রায় দুই কি.মি. এলাকা বালু লুটের জন্য ইতিমধ্যেই কিনে রেখেছে দলীয় নেতাকর্মীরা। সীমান্তের তিনটি শুল্ক স্টেশন চারাগাঁও, ও বড়ছড়ায় চলছে লুটের মহোৎসব। প্রাকৃতিক ভূ-স্বর্গ টাঙ্গুয়ার হাওরের মৎস্য সম্পদ ও বৃক্ষরাজি, পশুপাখি,কান্দার মাটি কোন কিছুই রেহাই পাচ্ছে না। আমরা মনে করি এই সমস্ত অপকর্ম কোন ভাবেই বিএনপির আদর্শের সাথে যায় না। এছাড়াও দলের একাংশ নেতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ‘দোসরদের’ সাথে ব্যবসায়িক ভাগ-বাঁটোয়ারা এবং অনৈতিক সখ্যতা গড়ে তুললেও এসব দেখেও দলের ভেতরে কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন এবং ‘হ্যাঁ ভোট’ কেন্দ্রিক কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে দলের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তৃণমূলের এই দুই নেতার পদত্যাগের ফলে তাহিরপুর বিএনপিতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর