পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের ‘মৃত্যুর’ খবর ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে। তবে পাকিস্তান সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষ এসব তথ্যকে ভিত্তিহীন গুজব বলে দাবি করেছে। তারা জানায়, ইমরান খান আদিয়ালা জেলেই আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থাও ভালো।
তবে গত বেশ কিছুদিন ধরে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি তার পরিবারকে। এ অবস্থায় তার ‘মৃত্যুর’ খবরে সোশ্যাল মিডিয়া সয়লাব হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইমরান খান যে সত্যিই জীবিত আছেন, জেল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণ চেয়েছে তার পরিবার।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—ইমরান খানের ছেলে কাশিম খান এক্সে পোস্ট করে জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে তার বাবাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে। আত্মীয়স্বজন বা আইনজীবীদের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, গত ছয় সপ্তাহ ধরে ইমরান খানকে একটি ‘ডেথ সেল’-এ একা রাখা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কাশিম অভিযোগ করেন, এ ধরনের বিচ্ছিন্নতা কোনো নিরাপত্তা প্রটোকলের অংশ নয়; বরং তার বাবার প্রকৃত স্বাস্থ্যগত অবস্থা গোপন করার উদ্দেশ্যে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বিদেশি সরকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে তার বাবার জীবিত থাকার প্রমাণ, পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ, ‘অমানবিক বিচ্ছিন্নতা’ বন্ধ করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আটক নেতার মুক্তি দাবি করেন।
ইমরান খানের বোন আলিমা খানম জানান, মাসের পর মাস ধরে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ করতেই দেওয়া হচ্ছে না। কখনো তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়, কখনো তার বোনদের—আবার কখনো কাউকেই নয়। তিনি এনডিটিভিকে বলেন, অনেক সময় তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে অপেক্ষা করেও ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আরেক বোন নুরীন নিয়াজি জানান, চার সপ্তাহ ধরে আত্মীয়দের প্রবেশাধিকার বন্ধ। তার অভিযোগ, কারা কর্তৃপক্ষ পরিবারের কাউকে কোনো তথ্যই জানাচ্ছে না।
পিটিআইর জ্যেষ্ঠ নেতা জুলফি বুখারি বলেন, দল হিসেবে তারা ইমরান খানের মৃত্যুগুজব বিশ্বাস করে না, তবে দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা ও সাক্ষাতের অনুমতি না দেওয়ার কারণেই গুজব ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, যদি পরিবার বা আইনজীবীদের দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে গুজব ও উদ্বেগ সবই দূর হয়ে যাবে।
অন্যদিকে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান কারাগারেই আছেন এবং সুস্থ আছেন। তার যত্ন নেওয়া হচ্ছে, চিকিৎসকরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। তাকে গোপনে কোথাও স্থানান্তরের খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলেও দাবি করে জেল প্রশাসন।
সরকারি পর্যায় থেকেও গুজব উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ বলেন, ইমরান খান ভালো আছেন, তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা যথাযথভাবে দেখভাল করা হচ্ছে।
এদিকে ইমরান খানকে নিয়ে এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। পরিবার ও সমর্থকরা যেখানে তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন, সরকার সেখানে সবকিছুকে স্বাভাবিক বলে দাবি করছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর