• ঢাকা
  • ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৫৬ সেকেন্ড পূর্বে
মোহাম্মদ ফয়সাল
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:৪১ রাত

চট্টগ্রাম বন্দরে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ২০২৫ সালে রেকর্ড সাফল্য

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

পরিবহন ধর্মঘট, শুল্ক কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটি কন্টেইনার ওঠানামা ও পরিবহন, কার্গো (পণ্য) পরিবহন এবং আমদানি-রপ্তানি পণ্যবোঝাই জাহাজ পরিচালনা- সবক্ষেত্রে আগের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। বছর শেষ হওয়ার আগেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বন্দর সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সন্তোষ ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

বন্দরের কর্মকর্তারা বলছেন, “বন্দরের কর্মকাণ্ডকে ‘দৃশ্য-অদৃশ্য’ হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে পারা, ব্যবহারকারীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরবচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ড এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের কারণে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।”

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্দরে ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউস কন্টেইনার এবং ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। এ সময় বন্দরে এসেছে ৪ হাজার ৪০৬টি জাহাজ, যা এক বছরে সর্বোচ্চ জাহাজ আগমনের রেকর্ড।

২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ টিইইউস। এর তুলনায় ২০২৫ সালে অতিরিক্ত ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪২টি কন্টেইনার এবং ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন কার্গো বেশি হ্যান্ডলিং হয়েছে। ফলে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল) পরিচালিত টার্মিনালগুলো ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই–ডিসেম্বর) উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। এ সময়ে মোট ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬৬৮ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে এককভাবে অক্টোবর মাসে সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

২০২৫ সালে কাস্টমসের কলম বিরতি, বিভিন্ন ধর্মঘট ও দেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে লজিস্টিক খাতে চ্যালেঞ্জ থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের ওয়েটিং টাইম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অক্টোবর মাসে ওয়েটিং টাইম ছিল ১৮ দিন, আর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে টানা ২৬ দিন করে জাহাজের ওয়েটিং টাইম শূন্য ছিল।

জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে জাহাজ সেবা ও মালামাল হ্যান্ডলিং খাত থেকে। প্রায় চার দশক ধরে (১৯৮৬ সাল থেকে) পুরোনো ক্যারেজ ট্যারিফে সেবা দেওয়া হলেও এসময়ে জ্বালানি, জনবল, যন্ত্রপাতি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বন্দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার সময়োপযোগীভাবে ট্যারিফ হালনাগাদের সিদ্ধান্ত নেয়। আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইডিওএমের সুপারিশ এবং স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা শেষে নতুন ট্যারিফ নির্ধারণ করে ১৪ সেপ্টেম্বর গেজেট আকারে প্রকাশ করে তা কার্যকর করা হয়।

২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মোট রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি। এ সময়ে রাজস্ব উদ্বৃত্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও সেবার মান বজায় রেখে রাজস্ব আরও বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সরকারকে এক হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়েছে, যা বন্দরকে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজস্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থাপন করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে বেশকিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে বেসরকারি অপারেটরের পরিবর্তে চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। সেখানে দেখা গেছে, তারা কনটেইনার হ্যান্ডলিং প্রায় ১১ শতাংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এটার প্রভাব সার্বিকভাবে পড়েছে। ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতাও আগের চেয়ে বেড়েছে। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে বাল্ক কার্গোর কারণে। সেখানে একবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ শতাংশেরও বেশি।’

তিনি বলেন, ‘কাস্টমসের কলমবিরতি, বিভিন্ন ধর্মঘট, দেশের পরিবর্তনশীল নাজুক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বন্দরের উন্নত অপারেশনাল সক্ষমতার কারণে আমরা সেটা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। যেমন, ই-গেট পাস, কন্টেইনার ট্র্যাকিং ও স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট সিস্টেম। এ তিনটি পদক্ষেপ বন্দরের অপারেশনার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন হয়েছে, বন্দর ব্যবহারকারীদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী নীতিমালা করা হয়েছে। এতে বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে।’

মাসুম/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]