ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে সম্পদে বড় ব্যবধান দেখা গেছে। হলফনামায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সুজাতের তুলনায় রেজার বার্ষিক আয় ছয়গুণ বেশি এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ প্রায় দ্বিগুণ। রেজা ও তাঁর তিন নির্ভরশীলের বার্ষিক আয় ৩১ লাখ টাকা, যেখানে সুজাতের আয় মাত্র ৬ লাখ টাকা। নির্ভরশীলদেরসহ রেজার মোট সম্পদ ১৫ কোটি টাকার বেশি; সুজাতের সম্পদ প্রায় ৭ কোটি টাকা।
এছাড়া এই আসনের আরও চার প্রার্থীও অর্থসম্পদের ক্ষেত্রে এই দুই প্রার্থীর তুলনায় বহুগুণ পিছিয়ে রয়েছেন। জেলা রিটার্নিং কার্যালয়ে জমা দেওয়া ছয়জনের হলফনামায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। রেজা কিবরিয়া ও শেখ সুজাত মিয়া কারোর নামেই কোনো মামলা নেই, হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
শেখ সুজাত মিয়া দেখিয়েছেন, কৃষিখাত, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য খাত থেকে তাঁর বাৎসরিক আয় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ ৯৮ লাখ ৪ হাজার ৫২৯ টাকা, স্থাবর সম্পদ ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা, মোট সম্পদ দাঁড়ায় ৬ কোটি ৭১ লাখ ৮৩ হাজার ৫২৯ টাকা। কিছু যৌথ সম্পদের কথা উল্লেখ করা হলেও স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের নামে কোনো সম্পদ দেখাননি তিনি। পেশা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। মামলার প্রেক্ষাপটেও তথ্য দিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, মোট ৫টি মামলার আসামি ছিলেন। এর মধ্যে ৪টি মামলায় অব্যাহতি এবং ১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে জেনারেল সার্টিফিকেট অব সেকেন্ডারি এডুকেশন অর্জন করেছেন।
ড. রেজা কিবরিয়া তাঁর হলফনামায় দেখিয়েছেন, নিজে ও তিন নির্ভরশীলের নামে বাৎসরিক আয় ৩১ লাখ ১ হাজার ৬৪৬ টাকা। নিজের নামে অস্থাবর সম্পদ ৩ কোটি ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৬ টাকা, স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ২৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৩ টাকা। এছাড়াও স্ত্রীর ১২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। নিজের নামে স্থাবর সম্পদ ৪ কোটি ১৫ হাজার টাকা এবং ধানমণ্ডিতে একটি ফ্ল্যাট, স্ত্রীর নামে ২ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা, ফলে স্বামী-স্ত্রী মিলিয়ে মোট সম্পদ দাঁড়ায় ১৫ কোটি ৪০ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫৯ টাকা। রেজা কিবরিয়া তাঁর নামে কোনো মামলার কথা উল্লেখ করেননি। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আলী গত বছরে তিনটি খাতে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার ৮৮৫ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পদ ২২ লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৪ টাকা। স্ত্রীর নামে ৩ লাখ টাকার স্বর্ণ রয়েছে। ৩৭টি মামলার মধ্যে ১৪টি থেকে খালাস, ১৯টি মামলা থেকে অব্যাহতি এবং একটি মামলা চলমান আছে। তিনি স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পেশায় তিনি শিক্ষক।
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম দাওরায়ে হাদিস পাস। তাঁর বাৎসরিক আয় ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ প্রায় ১৩ লাখ টাকা ও স্থাবর সম্পদ প্রায় দুই কোটি টাকা। তবে ২৯ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। পেশা দেখিয়েছেন শিক্ষকতা।
বাসদের প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ পেশায় নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে দেখিয়েছেন। তাঁর নিজের ও নির্ভরশীলদের বাৎসরিক আয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা। নিজের নামে ৪২ লাখ ও স্ত্রীর নামে ৫৭ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন। স্থাবর সম্পদ তাঁর নামে প্রায় দেড় লাখ টাকা। এছাড়া কামিল পাস করা প্রার্থী বদরুর রেজা বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪৩ টাকা এবং লাখ খানেক টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর