চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু দুই ভাইবোনের মধ্যে মোরশেদ মারা গেছে। সোমবার (০৫ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।
এ বিষয়ে হাসপাতালে থাকা স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশনের সদস্য সাফায়েত রায়হান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায়, চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলো শিশু মোরশেদ। আজ চিকিৎসাধীন অবস্থা সে মারা যায়। তার পিতা জেল হাজতে এবং মায়ের খোঁজ এখনো মিলেনি। হাসপাতালে তার দাদি রয়েছেন।
শিশুটির দাদি পারভীন আক্তার (৬৫) জানান, শিশুটির মরদেহ তাদের দেশের বাড়ি খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, শিশু মোরশেদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুরে মারা গেছে, তার মরদেহ মানিকছড়ি নিয়ে যাওয়া হবে। তার বোনকে যদি তার দাদি নিতে চায় তাহলে তাকেও দাদিকে দিয়ে দেওয়া হবে না হয় অন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে, ৩০ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মোর্শেদকে প্রথমে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
অপরদিকে, মোর্শেদের চার বছর বয়সী বোন আয়েশাও বর্তমানে ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি আছে। সে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের মাজারগেট এলাকা থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে মেয়েশিশুটির বয়স চার ও ছেলেশিশুটির বয়স দুই বছর। কনকনে শীতের মধ্যে সড়কের পাশ থেকে ওই দুই শিশুকে উদ্ধার করে প্রথমে নিজের কাছে রাখেন মহিম উদ্দিন নামের সিএনজিচালিত এক অটোরিকশার চালক। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিশু দুটিকে হেফাজতে নেয় উপজেলা প্রশাসন।
এরপর ৩০ ডিসেম্বর দুপুরে ওই দুই শিশুকে নিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে যান আনোয়ারার ইউএনও তাহমিনা আক্তার। জেলা প্রশাসক তাদের চিকিৎসা ও যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নেন। পরে দুই শিশুর মধ্যে মেয়েশিশুকে অটোরিকশাচালক মহিম উদ্দিনের জিম্মায় তুলে দেওয়া হয়। আর গুরুতর অসুস্থ ছেলেশিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর