শুধু রাজনীতিতে নয়, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনেতা হিসেবেও মুক্তির আগে নানা বিতর্ক ও বাধার মুখে পড়েছে দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয়ের একাধিক সিনেমা। ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সুরা’ থেকে শুরু করে আসন্ন ‘জননায়াগন’ (২০২৬)—প্রায় ১৫ বছর ধরে কোনো না কোনোভাবে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।
২০১০: সুরা
বিজয়ের ৫০তম সিনেমা ‘সুরা’র প্রাথমিক নাম ছিল Sura – The Leader। শিরোনাম ও ‘দ্য লিডার’ ট্যাগলাইন নিয়ে আপত্তি ওঠায় নাম পরিবর্তন করে শুধু ‘সুরা’ রাখা হয়। যদিও সিনেমাটি সময়মতো মুক্তি পায়, বক্স অফিসে এটি বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০১১: কাভালান
‘সুরা’র ক্ষতির জেরে তামিলনাডু থিয়েটার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আর্থিক বিরোধের কারণে মুক্তি অনিশ্চয়তায় পড়ে ‘কাভালান’। পাশাপাশি তৎকালীন ডিএমকের রাজনৈতিক চাপের অভিযোগও ওঠে। পরে মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার হস্তক্ষেপে সিনেমাটি মুক্তি পায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০১২: থুপ্পাক্কি
এই সিনেমা বিজয়ের ক্যারিয়ারে বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তবে মুক্তির আগে মুসলিম সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে, সিনেমাটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছে।
২০১৩: থালাইভা
‘Time to Lead’ ট্যাগলাইনের কারণে রাজনৈতিক ইঙ্গিতের অভিযোগে তামিলনাডুতে এক সপ্তাহের বেশি সময় সিনেমাটির মুক্তি বিলম্বিত হয়। তৎকালীন ক্ষমতাসীন এআইএডিএমকের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। বিজয় একটি ভিডিও বার্তায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন এবং মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও সফল হননি বলে জানা যায়।
২০১৪: কাথথি
শ্রীলঙ্কাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান লাইকা প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত হওয়ায় প্রো-তামিল সংগঠনগুলোর তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে ‘কাথথি’। ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সিনেমাটি মুক্তি পায়। পরে গল্প চুরির অভিযোগও ওঠে।
২০১৫: পুলি
আর্থিক জটিলতা ও পরিবেশকসংক্রান্ত সমস্যার কারণে সিনেমাটির মুক্তি প্রক্রিয়া ছিল চাপপূর্ণ ও জটিল।
২০১৭: মার্সাল
মুক্তির পর চিকিৎসক ও হাসপাতাল ব্যবস্থাকে নেতিবাচকভাবে দেখানো এবং জিএসটি ও নোট বাতিল নিয়ে রাজনৈতিক সংলাপের কারণে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
২০১৮: সরকার
রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ফ্রি উপহার’ সংস্কৃতির সমালোচনা করায় সিনেমাটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয় এবং মুক্তির পরও চাপ অব্যাহত থাকে।
২০২৬: জননায়াগন
রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হওয়ার পর বিজয়ের নতুন সিনেমা ‘জননায়াগন’ আবারও ‘থালাইভা’–পরবর্তী সময়ের মতো বিতর্কে পড়েছে। পার্থক্য হলো—২০১৩ সালে মুক্তি শুধু তামিলনাডুতেই বিলম্বিত হয়েছিল, কিন্তু এবার দেশের প্রায় সব জায়গাতেই মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের সিনেমা ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানের মিশ্রণই তাঁকে বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসছে। ‘জননায়াগন’ শেষ পর্যন্ত কীভাবে ও কবে মুক্তি পায়, সেদিকে এখন নজর পুরো দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর