আলিম সমাজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় জাতীয় রাজনীতিতে আলিম সমাজের অংশগ্রহণ দিন দিন আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। কেউ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, কেউ শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ জয়ী হবেন আবার কেউ পরাজিত হচ্ছেন—তবে একটি বিষয় সবার জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তা হলো, নির্বাচনের ফল যাই হোক, জনসেবা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা।
এমনটাই মনে করেন সিলেট–৪ আসনের দেয়াল ঘড়ি মার্কার সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলী হাসান উসামা। তিনি খেলাফত মজলিসের উলামা বিষয়ক সম্পাদক। সম্প্রতি এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, নেতৃত্ব কখনো চেয়ে নিতে হয় না। জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারলেই মানুষ আপনাআপনি নেতৃত্বের আসনে বসিয়ে দেয়। আজ না হোক, দুদিন পরে হলেও সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটবেই।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে পাঁচ বছর কোনো ছোট সময় নয়। এই দীর্ঘ সময়ে যদি আলিমরা জনবান্ধব ইস্যুতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে হাদির মতো প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন এবং সংকটকালে নিপীড়িত মানবতার পাশে দাঁড়ান, তাহলে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াই অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে—ইনশাআল্লাহ।
আলী হাসান উসামা মনে করেন, এক্ষেত্রে সংগঠনকে শক্তিশালী করাও অত্যন্ত জরুরি। সংগঠিত শক্তি ছাড়া জনপ্রিয়তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মাঠে থাকা, মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখাই রাজনৈতিক সফলতার মূল চাবিকাঠি।
তিনি নির্বাচনী রাজনীতিতে ‘বসন্তের কোকিল’ হওয়ার প্রবণতা থেকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বলেন, শুধু নির্বাচনের সময় সক্রিয় হয়ে পরে হারিয়ে যাওয়া জনগণ প্রত্যাশা করে না। দুর্দিনে যে পাশে থাকে না, সুদিনে তার প্রয়োজনীয়তাও ফুরিয়ে যায়।
তার ভাষায়, প্রস্তুতি যত দৃঢ় ও সুসংহত হবে, রাজনৈতিক লড়াই তত সহজ হবে। যে আসন থেকে নির্বাচন করা হয়েছে, সেটিই হোক কিংবা কৌশলগত কারণে অন্য কোনো আসন—প্রথমে সেখানে বীজ বপন করতে হবে। সময় ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে প্রাকৃতিক নিয়মেই একদিন চারা গজাবে।
আলী হাসান উসামা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সারাদেশে বিপুল সংখ্যক আলিম যদি টানা পাঁচ বছর রাজপথে, মানুষের পাশে এবং ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেন, তাহলে দেশের রাজনীতির চিত্র বদলাতে খুব বেশি সময় লাগবে না। ইনশাআল্লাহ, একটি নৈতিক, জনকল্যাণমূলক ও ইসলামিক মূল্যবোধসম্পন্ন রাজনীতির পথে দেশ এগিয়ে যাবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর