ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ধুরধুরিয়া আলিম মাদরাসায় সরকারি নির্দেশিকা না থাকলেও দাখিল পরীক্ষার ফরম ফিলাপে জোরপূর্বকভাবে কোচিং ফি এর নামে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চরম অসন্তোষ ও দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
জানাগেছে, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ধুরধুরিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে এ বছর সাধারণ ও বিজ্ঞান বিভাগ মিলে মোট ৪৩জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করবেন। ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণে বোর্ড কর্তৃক সাধারণ শাখার জন্য ২৩৩০ টাকা ও বিজ্ঞান শাখার ফরম পূরণে ২৬৩০ টাকা নির্ধারণ করলেও প্রতিষ্ঠান প্রধানের বাধ্যবাধকতায় নেওয়া হচ্ছে কোচিংয়ের নামে অতিরিক্ত টাকা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে মাদ্রাসায় গেলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছ থেকে উঠে আসে অমানবিক ও হতাশার চিত্র। কোচিং ফি ছাড়া কারোরই মিলছেনা ফরম ফিলাপ। এমন জিম্মি দশার বর্ণনা দিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এক হতদরিদ্র শিক্ষার্থীর দিনমজুর পিতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই অভিভাবক জানান, তিনি এক সুদি কারবারির কাছ থেকে মাসে ২০ টাকা লাভ দিয়ে ১৫০০টাকা এনে কোচিংয়ের টাকা জমা দিয়েছেন। মো. দুলাল হোসেন নামে আরেক শিক্ষার্থী অভিভাবক জানান, হাস, মুরগি,ক্ষেতের তরু তরকারি বিক্রি করে অনেক কষ্টে ফরম ফিলাপের টাকা জুগিয়েছি। কোচিং ফির দেড় হাজার টাকা না দেওয়ায় দায়িত্বরত শিক্ষক আমার মেয়ের ফরম ফিলাপ করেননি। পরে আরেক জনের কাছ থেকে টাকা হাওলাত করে এনে ফরম ফিলাপ করি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজ্ঞান শাখার এক শিক্ষার্থী জানান, এর আগেও মাদরাসায় কোচিং শুরু করা হয়েছিল। প্রথমে সবার কাছ থেকে টাকা নিলেও পরে কিছুদিন পড়িয়ে স্যারেরা আর পড়ায়নি। আমরা বলেছিলাম মাসে মাসে কোচিংয়ের টাকা পরিশোধ করবো, কিন্তু স্যারেরা তাতে রাজি না, তাদের কথা কোচিংয়ের টাকা আগে পরে ফরম পূরণ। শিক্ষার্থীদের সাথে স্যারদের এমন রুঢ় আচরন আমরা কখনো আশা করিনি। ফরম পূরণ করতে আসা আসিফ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা টেস্টে উত্তীর্ন হয়েছি, আমাদের জন্য কোচিং বাধ্যতামূলক করার কোন যুক্তি দেখিনা, তবুও বাধ্য করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ধুরধুরিয়া আলিম মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা জিয়াউল হক বলেন, আমরা জোর করে কোচিংয়ের জন্য কোন টাকা নিচ্ছিনা। শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে আমরা কোচিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কোচিংয়ের জন্য বলেছিলাম, তবে জোরপূর্বক কোচিংয়ের জন্য টাকা নেওয়া ঠিক নয়, কেউ দরিদ্র হলে সেক্ষেত্রে শিক্ষকদের মানবিক দৃষ্টিতে দেখতে হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও প্রতিষ্ঠান প্রধানরা মিলে দুর্বল শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে কোচিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছেন। কোন শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় কোচিং না করতে চাইলে তাকে বাধ্য করার কোন সুযোগ নেই। এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর