বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয়সংক্রান্ত সম্ভাব্য আলোচনা এবং এর ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর ভারত গভীর নজর রাখছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের মতে, এ ধরনের বিষয় জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানান।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খানের সাম্প্রতিক ইসলামাবাদ সফর এবং সেখানে যুদ্ধবিমান বিষয়ে আলোচনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন সব পরিস্থিতির ওপর আমরা গভীর নজর রাখছি।”
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ বিষয়ে ভারতের আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ নয়াদিল্লির অনুমতি চেয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এ ধরনের বিষয়গুলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বিমান পরিষেবা চুক্তি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।”
এ ছাড়া বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশে উগ্রবাদীদের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বারবার হামলার একটি উদ্বেগজনক ধারা আমরা লক্ষ্য করছি। এ ধরনের সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলো দ্রুত ও কঠোরভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।”
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'এই ধরনের সহিংসতাকে ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক বিরোধ বা অন্যান্য অপ্রাসঙ্গিক কারণ হিসেবে বর্ণনা করার একটি “উদ্বেগজনক প্রবণতা” দেখা গেছে।'
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, 'এ ধরনের দায়সারা দৃষ্টিভঙ্গি কেবল উগ্রবাদী এবং অপরাধীদের উৎসাহিত করে এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার বোধকে আরও গভীর করে।'
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অনুপস্থিতি এবং নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলক না হওয়া নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত বরাবরের মতোই অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে।
এ বিষয়ে রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, “ভারত অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের সমর্থন ও আহ্বান অব্যাহত রেখেছে, যাতে একটি বিশ্বাসযোগ্য জনমত বা গণম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠিত হয়।”
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর