ভারত, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া—ক্রিকেট বিশ্বের তিন পরাশক্তির বিপক্ষেই এক ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর এই অনন্য অর্জনের পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ডারউইন টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হাসান। ৫৫ রান খরচ করে একাই তুলে নেন ৬ উইকেট। তার দুর্দান্ত পেস ও বাউন্সের সামনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ছয় উইকেটের আগে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষেও টেস্টে ফাইফার পেয়েছেন হাসান। ফলে ক্রিকেটের সময়ের অন্যতম শক্তিশালী তিন দলের বিরুদ্ধেই এক ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব এখন তার দখলে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে যেকোনো সংস্করণে কোনো বাংলাদেশি বোলারের পাঁচ উইকেট নেওয়ার ঘটনাও এটিই প্রথম। আর টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট পেলেন ২৬ বছর বয়সী এই পেসার।
দিন শেষে নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব সতীর্থদেরও দিয়েছেন হাসান। তিন ফাইফারকেই বিশেষ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৩টি ফাইফারকেই সেরা অর্জন বলব। বিশ্বের সেরা ৩ দলের বিরুদ্ধে আমি ফাইফার পেয়েছি।’
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বোলিং করাটা চ্যালেঞ্জিং ছিল বলেও জানান তিনি। হাসানের ভাষায়, কয়েক দিনের প্রস্তুতি বেশ ভালো ছিল এবং দলের বোলাররা অনুশীলনে নিজেদের প্রস্তুত করেছেন। এদিন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনের বোলিংয়েরও প্রশংসা করেন তিনি।
ছয় উইকেটের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি মনে থাকবে—এমন প্রশ্নে শুরুতে সব উইকেটকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন হাসান। তবে পরে অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার স্টিভেন স্মিথের উইকেটটিকে আলাদাভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
হাসান জানান, স্মিথ তখন তার পরবর্তী বল সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। সে কিছু একটা করার চেষ্টা করতে পারে—এমন ধারণা থেকেই বাউন্সার দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই বলেই স্মিথ পরাস্ত হন।
হাসানের বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররাও। ম্যাচ চলাকালে ট্রাভিস হেড তাকে ‘খুব ভালো বোলিং’ করছেন বলে প্রশংসা করেন। অন্যদিকে নাথান লায়ন জানতে চান, টেস্টে হাসানের ফাইফারের সংখ্যা কত।
নিজেদের বোলিং পরিকল্পনা সম্পর্কে হাসান বলেন, শুরুতে উইকেটে কিছুটা আর্দ্রতা থাকলেও পরে তা নরম হয়ে যায়। তাই শুরু থেকেই শৃঙ্খলা ধরে রেখে জুটি বেঁধে বল করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই পরিকল্পনা সফলভাবেই বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন বলে মনে করেন বাংলাদেশের এই পেসার।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
স্পোর্টস এর সর্বশেষ খবর