ছাত্রজীবনে রাজনীতির হাতেখড়ি। এরপর শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিব—রাজনীতির মাঠে পাঁচ দশকের বেশি সময়ের পথচলায় এবার দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়। একই দিন তার মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়। প্রার্থী হওয়ার পর তিনি মন্ত্রিসভা, বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন।
বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদও প্রার্থী হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম মির্জা ফখরুলের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ার সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
পড়াশোনা শেষে ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা করেন। পরে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন।
তৃণমূল থেকে জাতীয় রাজনীতি
১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পান। ধীরে ধীরে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।
২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
কঠিন সময়ে বিএনপির নেতৃত্ব
২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল। এরপর প্রায় এক দশক ধরে দলের নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি।
খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের সময় বিএনপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ফখরুল। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কয়েকবার কারাবরণও করেন তিনি।
এবার রাষ্ট্রপতি হওয়ার অপেক্ষা
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রনেতা থেকে শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব—বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন মির্জা ফখরুল। এবার সেই দীর্ঘ পথচলায় দেশের রাষ্ট্রপতি পদ যুক্ত হওয়ার অপেক্ষা।
বিএনপির নেতাদের মতে, দলের কঠিন সময়ে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সংসদে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ২০ আগস্টের ভোটে তার জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর