মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে হঠাৎ রিলিজ করে দেওয়ার ঘটনায় আইনি পথে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও সে প্রস্তাব গ্রহণ করেননি বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ) এ বিষয়ে তাকে পূর্ণ আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত ছিল এবং চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে ক্ষতিপূরণ আদায়ের সম্ভাবনাও দেখেছিল।
ডব্লিউসিএ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আইপিএলের সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারত। তবে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে মুস্তাফিজ সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।
বিষয়টি সম্পর্কে বিসিবির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, মুস্তাফিজ পুরো বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে আগ্রহী ছিলেন না। তার মতে, আইনি লড়াইয়ে জড়ালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মনোযোগ ব্যাহত হতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হবে। পাশাপাশি তিনি দেশের ক্রিকেট ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানকেও গুরুত্ব দিয়েছেন।
ক্রিকেটারদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্রিকেট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানিয়েছেন, ডব্লিউসিএর পক্ষ থেকে প্রায় নিশ্চিত করা হয়েছিল যে আইনি প্রক্রিয়ায় গেলে মুস্তাফিজ তার আইপিএল চুক্তির অর্থের একটি অংশ আদায় করতে পারেন। তবে বিষয়টি চোট বা বিমা সংক্রান্ত না হওয়ায় পুরো অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল না।
মিঠুন আরও জানান, মুস্তাফিজ আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণেই সন্তুষ্ট এবং প্রয়োজনে নিজেই এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।
আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বিসিসিআইয়ের নির্দেশনার আলোকে নেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, যেখানে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব কেবল মাঠে সীমাবদ্ধ না থেকে কূটনৈতিক পর্যায়েও আলোচনায় এসেছে।
ডব্লিউসিএর আইনি সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে মুস্তাফিজ স্পষ্ট করেছেন, তিনি মাঠের ক্রিকেট দিয়েই নিজের জবাব দিতে চান। বর্তমানে জাতীয় দলের আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচি ও প্রস্তুতিতেই তার পুরো মনোযোগ।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর