মধ্যপ্রাচ্যের দেশে বড় পরিসরে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের অংশীদার বাহিনী। স্থানীয় সময় শনিবার (১০ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর লক্ষ্যবস্তুতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর ওপর আইএসের প্রাণঘাতী হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’-এর অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ দমন এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ‘আমাদের বার্তা স্পষ্ট ও শক্তিশালী- যদি তোমরা আমাদের যোদ্ধাদের ক্ষতি করো, আমরা তোমাদের খুঁজে বের করব এবং পৃথিবীর যেখানেই থাকো না কেন, হত্যা করব। ন্যায়বিচার এড়াতে যতই চেষ্টা করো না কেন, শেষ পর্যন্ত এর মুখোমুখি হতে হবে।’
বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অংশীদার সিবিএস নিউজকে দেওয়া তথ্যে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের অংশীদার বাহিনী সিরিয়ায় ৩৫টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ৯০টির বেশি নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। অভিযানে অংশ নেয় ২০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ই, এ-১০, এসি-১৩০জে, এমকিউ-৯ ড্রোনসহ জর্ডানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে। তবে হামলাগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান এবং হতাহতের পরিমাণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে অভিযানের বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা কখনো ভুলব না, এবং কখনো থামব না।’
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমবারের মতো ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’-এর ঘোষণা দেয়। সিরিয়ার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর পালমিরায় চালানো এক অতর্কিত হামলায় আইএসের এক বন্দুকধারীর গুলিতে দুই মার্কিন সেনা ও এক মার্কিন বেসামরিক দোভাষী নিহত হওয়ার পর এই অভিযানের ঘোষণা আসে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর