পুলিশের গুলিতে পা হারানো চট্টগ্রাম মহানগর সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি টিম আটক করেছে।
আটকের বিষয়ে জানতে সিএমপির গোয়েন্দা উত্তর জোনের উপ-কমিশনার হাবিবুর রহমানকে কল করা হলে তিনি সাড়া দেননি। তবে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ফয়সাল আহমেদ বলেন, এখনো পর্যন্ত বিষয়টি আমার নলেজে আসেনি।
তবে পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ৫ আগস্টের পর বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশ থানা এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাইফুলের ভাই ও ছাত্রদল নেতা মো. শাহীন বলেন, আমার ভাই ঢাকায় চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন। ডিবির লোক পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা চট্টগ্রাম পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা কেউ আটকের বিষয়টি স্বীকার করেছেন না। আমরা দেশের জন্য এত কষ্ট করলাম। আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আমার ভাই পা হারিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনে আমরা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছি। শেষপর্যন্ত ভিত্তিহীন অভিযোগে আমার ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২০২১ সালের ১৬ জুন সিএমপির বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি টিম সাইফুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়েছে দাবি করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই ঘটনায় সাইফুলের একটি পা কেটে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাইফুলের মা ছেনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে নালিশি মামলাটি দায়ের করেন। এতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ঘটনার সময়কালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামারুজ্জামান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহের অসীম দাশ, নুরু নবী, কে এম নাজিবুল ইসলাম তানভীর, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল ইসলাম, মো. রবিউল হোসেন ও পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত মো. শাহজাহানকে বিবাদী করা হয়।
আদালত মামলার অভিযোগ আমলে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার নিচে নয়, এমন পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিএমপি কমিশনারকে আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ১৬ জুন রাতে সাইফুল কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার বাসা থেকে বের হন। পরে স্থানীয়ভাবে পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত শাহজাহান তাকে জরুরি কথা বলার জন্য ডাকেন। একটি রেস্টুরেন্টে বসা অবস্থায় হঠাৎ সাইফুলকে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে একটি সাদা প্রাইভেটকারে তোলে পুলিশ কর্মকর্তারা। গাড়িটিতে করে তাকে কয়েক ঘণ্টা নগরের বিভিন্ন সড়কে ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে তাকে বায়জিদ লিংক রোডে আনা হয়। তখন রাত ১২টা থেকে ১টা বাজে। এসময় পুলিশ কর্মকর্তারা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করলে সাবেক ওসি কামরুজ্জামান সাইফুলের পায়ে গুলি করেন। ঘটনার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একইসঙ্গে তাকে একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। চমেক হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হলে সাইফুলকে ঘটনার পরদিন রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার বাম পা কেটে ফেলা হয়। যদিও মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায়নি মর্মে ২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন নগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. শহীদুল ইসলাম।
ওই সময় এই ঘটনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর