ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যে দেশটি যদি ইরানকে ‘পরীক্ষা’ নিতে চায়, তবে যুদ্ধের জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার আল জাজিরা আরবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, “ওয়াশিংটন যদি সামরিক বিকল্প পরীক্ষা করতে চায়, সেটিও তারা আগেও করেছে। আমরা তার জন্য প্রস্তুত।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপের ‘বুদ্ধিমান পথ’ বেছে নেবে। তবে অভিযোগ করেন, কিছু পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়িয়ে দিতে চাচ্ছে, যা মূলত ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে।
বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ধীরে ধীরে তা রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিচ্ছে। আরাঘচি জানান, চলমান বিক্ষোভের সময় ‘সন্ত্রাসী উপাদান’ ভিড়ের মধ্যে ঢুকে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ইরান সরকার বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এই অস্থিরতার দায়ে অভিযুক্ত করছে।
মানবাধিকার পরিস্থিতি
ইরানজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। অধিকারকর্মীদের দাবি, মৃতের সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত চিত্র জানা কঠিন হলেও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো সহিংসতার খবর প্রকাশ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রশাসন বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। ভার্চুয়াল দূতাবাস সতর্ক করেছে, বিক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হতে পারে, সহিংসতা ও গ্রেপ্তার বৃদ্ধি পেতে পারে।
অপরদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করবে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হবে। চীন, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলো এই পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে।
সম্ভাব্য যুদ্ধের আভাস
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশটি সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলার মতো বিকল্প রাখছে, তবে কূটনৈতিক আলোচনাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান করছে, যা সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা আরও বাড়াচ্ছে।
বিক্ষোভ ও অস্থিরতার মধ্যে নাগরিকদের উপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব, যা যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে তীব্র করে তুলতে পারে।
নাগরিকদের সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের ইরান ত্যাগের জন্য বিকল্প পথ হিসেবে আর্মেনিয়া বা তুরস্কে যাত্রা করার পরামর্শ দিয়েছে। যারা দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না, তাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, খাবার, পানি, ওষুধ মজুদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান-মার্কিন সম্পর্ক এখন ভগ্নাংশের দিকে চলছে, আর সামরিক এবং অর্থনৈতিক পদক্ষেপের সমন্বয়ে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর