নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিক্ষানুরাগী মোজাম্মেল হকের স্মরণে তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালনের পর মারা গেলেন তাঁর জৈষ্ঠ ভাতিজা মো. মঞ্জুর রহমান। তাঁর মৃত্যুতে প্রয়াত এমপির জৈষ্ঠ্য পুত্র ব্যারিষ্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জু, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠণের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন স্তুরের মানুষ গভীর শোক জানিয়েছেন।
জানা যায়, সোমবার (১২ জানুয়ারী) গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়াত এমপি মোজাম্মেল হকের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। গুরুদাসপুরের রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজে ওই অনুষ্ঠানে মঞ্জুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ব্যারিষ্টার রঞ্জু। স্মরণসভায় স্মৃতিচারণ, দোয়া ও আবেগঘন বক্তব্যে অংশ নেন মঞ্জুর রহমান। এসময় তাঁর কথাবার্তায় ছিল গভীর আবেগ ও অতীত স্মৃতির ভার। তবে কেউই বুঝে উঠতে পারেননি, সেটিই হতে যাচ্ছে তাঁর জীবনের শেষ উপস্থিতি। দিবসটির সকল কর্মসূচি পালন শেষে রাত সাড়ে ১২টায় মঞ্জুর রহমান আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টায় উপজেলার পাঁচশিসা ঈদগাহ মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, “গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামে ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত এমপি মোজাম্মেল হক ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারী মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাজনীতিবিদ, শিক্ষানুরাগী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক। তিনি ২০০১ সালে নাটোর-৪ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে মঞ্জুর রহমান ছিলেন বিএনপির জন্য নিবেদিত প্রাণ।”
ব্যারিষ্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জু বলেন, “প্রিয় চাচা মঞ্জুর রহমানের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। তিনি ছিলেন একজন ভদ্র, বিনয়ী ও পারিবারিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষ। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। আমি মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং তাঁর পরিবারকে এই শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন—আমিন।”
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর