শরীয়তপুরে আলোচিত শিশু নিবিড় হত্যা মামলার রায়ে দুজনকে ফাঁসি ও একজনকে বিভিন্ন ধারায় ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে শরীয়তপুর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (নারী ও শিশু আদালত) শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শাকিল হোসেন (১৯) ও সিয়াম হোসেন (২০)।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই শরীয়তপুর সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার মনির খানের ছেলে হৃদয় খান ওরফে নিবিড় (১১) নিখোঁজ হয়। সে তখন শহরের একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে ওই রাতেই পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে হৃদয়ের মায়ের মুঠোফোনে কল করে তাকে অপহরণের কথা জানিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ মুক্তিপণের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে ওই রাতেই খিলগাঁও এলাকার শাকিল হোসেন, পাবনার সিংঙ্গা এলাকার সিয়াম হোসেন এবং একই এলাকার এক কিশোরকে আটক করে।
তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পরদিন ১ আগস্ট সদর উপজেলার একটি ইটভাটা থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আসামিরা আদালতে স্বীকার করেন, হৃদয়কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর মুক্তিপণের জন্য ফোন করা হয়েছিল। মামলাটির তদন্ত প্রথমে পালং মডেল থানার এক কর্মকর্তা শুরু করেন। পরবর্তীতে তদন্তভার পায় পিবিআই। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে রায় ঘোষণার পর আসামিদের আদালত কাস্টডিতে নেওয়ার সময় স্থানীয় জনতা তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ দ্রুত আসামিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত হৃদয়ের মা নিপা আক্তার। চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে তিনি বলেন, অর্থের লোভেই আমার নিরীহ ছেলেটাকে হত্যা করা হয়েছে।
প্রায় আড়াই বছর ধরে সন্তানের শোকে দিন কাটাচ্ছি, একটি রাতও শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি। যাকে শিশু দেখানো হয়েছে, সে আদতে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। তার বিষয়ে দেওয়া রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রের কাছে আমার একটাই আবেদন—আসামিরা যেন উচ্চ আদালতে গিয়ে কোনোভাবে খালাস না পায় এবং দ্রুত রায় কার্যকর করা হয়।
এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদ কোতোয়াল বলেন, মামলার রায়ের সঙ্গে আমাদের দ্বিমত রয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর কামরুল হাসান বলেন, মামলাটিতে একজন কিশোরের বিচার শিশু আদালতে হয়েছে এবং তাকে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। অপর দুই আসামির বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছিল। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর