সারাদেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর গ্যাস সিন্ডিকেটের মুখে যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা, ঠিক তখনই ন্যায্যতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার দুই গ্যাস ব্যবসায়ী। সরকার নির্ধারিত মূল্যে ভোক্তাদের কাছে এলপিজি গ্যাস বিক্রি করে মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়ায় তাঁদের পুরস্কৃত করেছে দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ওমেরা ও আই গ্যাস ডিলার মো. হাবীব উল্লাহ এবং স্থানীয় রিটেইলার মো. ছৈয়দ আলম (কুসুম)-এর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানজিল পারভেজ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত টাকা না নিয়ে গ্যাস বিক্রি করে আসছিলেন। মূলত গ্যাসের ডিপু থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৩০৬ টাকা করে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস ক্রয় করে দীঘিনালা পর্যন্ত পৌঁছাতে পরিবহন ও আঞ্চলিক সকল খরচ হিসেবে প্রায় ১০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হয় ডিলারের। এতে সিলিন্ডার প্রতি মূল্য দাঁড়ায় ১৪০৬ টাকা। তবে মাত্র ২০ টাকা লাভে বরাবর ১৪০০ টাকা করে গ্যাস বিক্রি করেন মো. হাবীব উল্লাহ। আর ১৪০০ টাকায় এ গ্যাস পাইকারি কিনে ১৪২০ টাকা করে বিক্রি করেন খুচরা রিটেইলার মো. ছৈয়দ আলম (কুসুম)।
এর আগে তারা ফ্রেশ কোম্পানির গ্যাস- প্রতি সিলিন্ডার ১৭০০ টাকা করে বিক্রির প্রস্তাব পেয়েছিলেন ফ্রেশের ডিলার খাগড়াছড়ির রত্না ট্রেডার্স এর কাছ থেকে। সে সাথে ছিল অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের প্রস্তাবও। তবে এ অনৈতিক প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন তারা। এতে উপকৃত হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত অসংখ্য পরিবার। ভোক্তাদের অভিযোগ নয়, বরং সন্তুষ্টির কথাই বারবার উঠে এসেছে তাঁদের দোকান ঘিরে।
সম্মাননা পেয়ে আবেগাপ্লুত মো. হাবীব উল্লাহ বলেন, 'সৎভাবে ব্যবসা করাই আমাদের লক্ষ্য। লাভের চেয়ে মানুষের আস্থা আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।' অন্যদিকে মো. ছৈয়দ আলম (কুসুম) বলেন, 'প্রশাসনের এই স্বীকৃতি আমাদের সৎ সাহস আরও বাড়িয়ে দিল। ভবিষ্যতেও ন্যায্যতার পথেই থাকব।'
সুশীল সমাজ মনে করছেন, এই ধরনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের লাগাম টানতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দীঘিনালার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে- চাইলেই নৈতিকতা, মানবিকতা ও ব্যবসায়িক সাফল্য একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এমন দৃষ্টান্ত জাতীয় পর্যায়েও অনুসরণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানজিল পারভেজ বলেন, 'বর্তমান বাজার বাস্তবতায় ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি করা শুধু আইনি দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতাও। মো. হাবীব উল্লাহ ও মো. ছৈয়দ আলম সেই দায়বদ্ধতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তাঁদের এই উদ্যোগ অন্য ব্যবসায়ীদেরও অনুপ্রাণিত করবে। আমরা সৎ ব্যবসায়ীদের পাশে আছি, থাকব।'
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর