ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো দেশের চাপ বা প্রভাবের কারণে নয়, সম্পূর্ণ নিজের বিবেচনাতেই তিনি ইরানে হামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সম্প্রতি সৌদি আরব, কাতার ও ওমানসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিল—এমন গুঞ্জন শোনা যায়। তবে ফ্লোরিডা সফরের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সেই দাবি উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, কেউ তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেনি; সিদ্ধান্তটি একান্তই তার নিজের।
ট্রাম্পের এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্ত। তিনি জানান, ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, বিক্ষোভ দমনের সময় ইরানে ব্যাপক সহিংসতা, গ্রেপ্তার এবং শত শত মানুষের মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তুতি চলছিল। তবে ইরানের নেতৃত্ব সেই কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসায় ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি ইরানের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান। তিনি লেখেন, গত বৃহস্পতিবার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের যে পরিকল্পনা ছিল, তা বাতিল করার সিদ্ধান্তকে তিনি অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখেন। মানবাধিকার রক্ষা এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়ানোর এই উদ্যোগ তার কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে বলেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে।
এর আগে গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের চলমান বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার অভিযোগ তুলে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর, বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটন বেশ কঠোর অবস্থানে ছিল। তবে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ট্রাম্প জানতে পারেন যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে। এরপরই তিনি সামরিক হস্তক্ষেপের পথ থেকে সরে এসে কূটনৈতিক ও সমঝোতামূলক সুর গ্রহণ করেন।
সূত্র: এএফপি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর