জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ চলায় অডিটোরিয়ামটি বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র কেন্দ্রীয় মিলনায়তন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সভা, সেমিনার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হচ্ছে বিভিন্ন বিভাগের সেমিনার কক্ষ, শ্রেণিকক্ষ কিংবা মুক্তমঞ্চে। এতে একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়। তবে প্রায় এক বছর পার হতে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো পুরো প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন অডিটোরিয়ামটিতে মাত্র অল্প কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সঠিক নির্দেশনা ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দুই মাসের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ করা সম্ভব।
কাজের ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অডিটোরিয়াম বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান বারবার স্থান ও সময় পরিবর্তন করতে হচ্ছে, যা শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ জুন জবির কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের টয়লেট নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এককালীন ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ‘সিটি করপোরেশনের জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অনুকূলে শর্তসাপেক্ষে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। কাজের মান নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট ধরনের স্যাম্পল দেখিয়ে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অগোচরে স্যাম্পল পরিবর্তন করে চেয়ারে ভিন্ন মানের উপকরণ সংযুক্ত করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এ ঘটনায় জড়িত তিনজন প্রকৌশলীকে শনাক্ত করা হয়েছে। যারা স্যাম্পল পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ওই প্রকৌশলীদের অডিটোরিয়াম সংস্কারকাজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।”
এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রকল্প এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি কাজ নয়। ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অক্টোবরের মধ্যেই সিটি কর্পোরেশন প্রশাসনের কাছে অডিটোরিয়ামটি হস্তান্তর করা সম্ভব হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, “অডিটোরিয়াম সংস্কারে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করার চেষ্টা করেছে। আমরা যখনই তা লক্ষ্য করেছি, তখনই কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) লিয়াকত ইসলাম বলেন, “কয়েকদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুরোধে ডিসপ্লের আকার ৮৬ ইঞ্চি থেকে ৯৮ ইঞ্চিতে বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এই আকারের ডিসপ্লে দেশে পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে বিদেশ থেকে আনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় অডিটোরিয়ামের বিদ্যুৎ বিভাগের সব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দুই মাস সময় চেয়েছে।”
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর