নগরের কোতোয়ালী থানায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন আদালত।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো.জাহিদুল হক এই চার্জ গঠন করেন।
এ সময় ট্রাইব্যুনালে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ২৩ জন আসামি উপস্থিত ছিলেন। মামলার অপর ১৬ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
আসামিরা হলেন- চন্দন দাশ মেথর, রিপন দাশ, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাশ, আমান দাশ, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাশ, ওমকার দাশ, বিশাল, লালা দাশ, সামীর, সোহেল দাশ, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবী চরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাশ, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস ও দ্বীপ দাস।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, এটি একটি সংবেদনশীল ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। মামলার এজাহার, চার্জশিট, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি, জব্দকৃত আলামত, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করেই আদালত অভিযোগ গঠন করেছেন।
তিনি জানান, আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী এই হত্যাকাণ্ডের সহযোগিতাকারী ও প্রত্যক্ষ উস্কানিদাতা। তার নির্দেশ ও প্ররোচনায় অন্যান্য আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন। তাই চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে হত্যা ও প্ররোচনার (৩০২/১০৯) ধারায় এবং অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৭-এর অবৈধ সংঘবদ্ধ সহিংসতা, ৪৪৮-এর অনধিকার প্রবেশ, ৪৪৯-এর গুরুতর অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অনধিকার প্রবেশ, ৩০২-এর হত্যা এবং ৩৪-এর যৌথ অভিপ্রায়কে ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।
মামলার পরবর্তী দিন জানিয়ে তিনি বলেন, চার্জশিটভুক্ত ৩৯ জন আসামির মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে একজন আইনজীবী এবং পলাতক ১৬ আসামির পক্ষে পৃথক একজন আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কারাগারে থাকা ২২ আসামির পক্ষে পরবর্তী ধার্য তারিখে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হবে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ খুন হন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
২০২৫ সালের ১ জুন আলিফ হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সিএমপির কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান চার্জশিট দাখিল করেন। সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
গত ২৫ আগস্ট তৎকালীন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শেষে সুকান্ত দত্তসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছিলেন আদালত। ৩১ জনকে আসামি করে মামলার এজাহার দায়ের করা হলেও এজাহারনামীয় গগন দাশ, বিশাল দাশ ও রাজকাপুর মেথরের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করে মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর