জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আগামী শুক্রবার পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেবেন। সরকারি ব্যয় পরিকল্পনা এবং অন্যান্য নীতির প্রতি জনসমর্থন নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি জানান।
আল জাজিরার সোমবার (১৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে ২৩ জানুয়ারি দেশের নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়া হবে। এরপর আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের সব ৪৬৫টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে।
প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাত্র তিন মাস দায়িত্ব নেওয়ার পরই এই আগাম নির্বাচনের ঘোষণা আসছে। এটি তাকাইচির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শক্তিশালী জনসমর্থনকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতাসীন লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে (এলডিপি) নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে এবং জোট সরকারের শিথিল সংখ্যাগরিষ্ঠতা মজবুত করতে তিনি আগাম নির্বাচনের পথ বেছে নিয়েছেন। এই নির্বাচন ভোটারদের মনোভাব যাচাই করার একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়কে কেন্দ্র করে।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, জনগণের ৪৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, এরপর ১৬ শতাংশ মানুষ কূটনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এনএইচকের তথ্য অনুযায়ী, নিজস্ব কূটনৈতিক ব্যস্ততা বিবেচনায় রেখে তাকাইচি আগাম নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করেছেন। গত ১৩ জানুয়ারি তিনি নিজের শহর নারাতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুই দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এদিকে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার টোকিও শেয়ারবাজারে সূচক ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর