• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২২ সেকেন্ড পূর্বে
মোহাম্মদ ফয়সাল
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:০৩ দুপুর

সলিমপুরে র‍্যাব সদস্যকে হত্যার নেপথ্যে সন্ত্রাসী ইয়াছিন

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম অঞ্চল জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন র‍্যাব সদস্যরা। সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন র‍্যাব কর্মকর্তা মো. মোতালেব। হামলাকারীরা প্রথমে তার সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পায়ে গুলি করে। পরে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে লাঠি, রড ও কাঠ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

পুলিশ, র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে ইয়াসিনের নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধনের কথা ছিল। এ উপলক্ষে সেখানে বিপুলসংখ্যক লোকজন জড়ো হয়। অন্যদিকে রুকন গ্রুপের অনুসারী ও র‍্যাবের সোর্স মনা র‍্যাবকে জানান যে ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইয়াসিন উপস্থিত থাকবেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম র‍্যাবের পতেঙ্গা কোম্পানি থেকে একটি টিম সেখানে অভিযান পরিচালনার জন্য যায়। বেলা পৌনে চারটার দিকে অভিযানে যাওয়া র‍্যাব সদস্যদের ওপর ইয়াসিন গ্রুপের অনুসারীরা হামলা চালায়। একপর্যায়ে র‍্যাবের চার সদস্য ও সোর্স মনাকে আটকে ফেলা হয়। এ সময় র‍্যাবের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। আটকে রাখা সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাদের ওপর ব্যাপক মারধর করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনায় জঙ্গল সলিমপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের অনুসারীরাই এ হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে৷ একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা ইয়াসিন বর্তমানে বিএনপির পরিচয়ে এলাকায় সক্রিয়।

জঙ্গল ছলিমপুরের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করে জানান, সোমবার সেখানে একটি বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধন করার কথা ছিল৷ বিকাল ৩টা থেকে সেখানে রাজনৈতিক সভা শুরু হয়৷ তবে চারটার দিকে র‍্যাবের সদস্যরা ওই সভায় প্রবেশ করে আসামি খুঁজতে থাকে। এসময় ইয়াছিনের লোকজন হামলা করে। তারা র‍্যাবের মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে এবং তাদের ৩ জনকে অপহরণ করে দুর্গম পাহাড় আলীনগরে নিয়ে নির্যাতন চালায়৷

পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, র‍্যাবের দুটি মাইক্রোবাস (হাইয়েস) সলিমপুরে যাওয়ার পর লাঠিসোঁটা নিয়ে কিছু ব্যক্তি সেটিকে ধাওয়া দিচ্ছেন। একপর্যায়ে মাইক্রোবাস দুটির কাচ ভাঙচুর করেন তাঁরা। হামলার সময় ওই এলাকায় মাইকে ঘোষণা দেওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। ঘোষণায় এলাকার ফটক আটকানোর জন্য বলছিলেন এক ব্যক্তি।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে বসে আছেন আহত কয়েকজন র‍্যাব সদস্য। তাঁদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যান্ডেজ। কক্ষের মেঝে রক্তে লাল হয়ে আছে। পুলিশ সদস্যরা আহত র‍্যাব সদস্যদের গাড়িতে তুলে দিয়ে আসছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকাল তিনটায় ওই এলাকায় বিশেষ গ্রেপ্তার অভিযানে গেলে ইয়াছিনের বাহিনীর সদস্য কালা ইয়াছিন, নুরুল হক ভান্ডারী, ওমর ফারুক, মো. কাজী ফারুকসহ ৪০০-৫০০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল র‍্যাবের উপর অতর্কিত হামলা চালায়৷ এসময় তারা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে র‍্যাবের সদস্যের মারধর করে ও একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হঠাৎ মাইকে বাইরে মানুষ ঢুকে পড়ছে, সবাই বের হন, বাড়ি–ঘর বাঁচান জাতীয় শব্দ শোনা যায়। সেই ঘোষণার পর মুহূর্তেই বিভিন্ন গলি থেকে লোকজন ছুটে যায় পাহাড়ের দিকে। অনেকে আবার বলেন, মাইকের শব্দটি ঠিক মসজিদের মতো লাগেনি, বরং কোনো মোবাইল স্পিকারের মতো শোনায়। এমনকি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একই ধরনের শব্দ দুই জায়গা থেকে ভেসে আসে বলেও কেউ কেউ দাবি করেছেন।

স্থানীয় মসজিদ কমিটির একজন সদস্য বলেন, তাদের মাইক কেউ অপব্যবহার করেনি। তিনি দাবি করেন, ওই সময় মসজিদে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এলাকায় কিছু অসাধু লোক আলাদা মাইক ব্যবহার করে বাড়িঘর রক্ষার নামে মানুষকে উত্তেজিত করতে পারে। আমরা নিজেরাই ঘটনাটিতে বিব্রত, বলেন কমিটির এই সদস্য।

র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ৪৩ জন র‌্যাব সদস্য অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযানে গিয়েছিলেন। এলাকাটিতে র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ দুষ্কৃতকারী র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াসহ র‍্যাবের চারজন সদস্য গুরুতর আহত হন। তাঁদের পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এলাকাটির ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে বাহিনীর গাড়ি প্রবেশ করলেই পাহারাদারদের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা আগাম খবর পেয়ে যায়। এরপর পাহাড়ের ওপর থেকে গুলি, ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এককভাবে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রশাসনের ভাষ্যমতে, প্রশাসনের ওপর হামলার ঘটনা এখানে নতুন নয়। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক এবং সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন ওসি তোফায়েল আহমেদসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছিলেন। এর আগে ২০২২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি র‍্যাবের সঙ্গে এবং একই বছরের ২ আগস্ট ও ৮ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটে। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ ও খুনের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি সম্প্রতি সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েও সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। পাহাড়ের প্রবেশমুখে থাকা পাহারাদারদের সংকেত পেয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আগেভাগেই পাহাড়ের ওপর অবস্থান নেয় এবং অতর্কিত হামলা চালায়, যা এবারের র‍্যাবের অভিযানেও দেখা গেছে।

সূত্র জানায়, মূলত জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরে সরকারি খাস পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্য করায় ইয়াছিনের কাজ। এছাড়া পানি, বিদ্যুৎ, পরিবহন, দোকানপাট থেকে মাসিক কয়েক কোটি টাকার চাঁদাবাজি করেন ইয়াছিন।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নব্বই দশকে সন্ত্রাসী আলী আক্কাস জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় কেটে বসতি শুরু করেন। দখল ধরে রাখতে গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী। এলাকাটি দুর্গম পাহাড়ে হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে যেতে পারতেন না। এই সুযোগে নিম্ন আয়ের লোকজনের কাছে পাহাড়ি খাস জায়গা বিক্রি শুরু করে আক্কাসের বাহিনী। শুরুতে দুই শতক জায়গা বিক্রি হতো ২০ হাজার টাকায়। নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এসব জায়গা কেনাবেচা চলে আসছে। প্লট গ্রহীতাদের ছিন্নমূল সমবায় সমিতি নামক সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত করে বিদ্যুৎ, পানি, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নানা সেবা দেওয়ার কথা বলে নিয়মিত চাঁদা আদায় শুরু হয়। জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশ মুখে নির্মাণ করা হয় একাধিক লোহার গেট। পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ গেট অতিক্রম করতে পারতেন না। প্লট বিক্রির টাকা ও পাহাড় দখল নিয়ে এক সময় বাহিনীর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল। এর মধ্যেই র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান আক্কাস। এর কিছুদিন পর আক্কাসের সহযোগী কাজী মশিউর রহমান, ইয়াসিন মিয়া, গফুর মেম্বার ও গাজী সাদেক আলাদা আলাদা দল তৈরি করেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইয়াসিন সীতাকুণ্ডের এস এম আল মামুনের আশ্রয়ে ছিলেন। আল মামুন সীতাকুণ্ডের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা। ইয়াসিন এলাকার আলীনগর বহুমুখী সমিতির নেতৃত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে রয়েছেন কাজী মশিউর, গাজী সাদেক। যারা প্লট কিনেছেন তারাই এ দুই সমিতির সদস্য। বর্তমানে এ দুটি সমিতিতে প্রায় ৩০ হাজার সদস্য রয়েছেন।

গত ২ জানুয়ারি সলিমপুরে খুন হন ইউনিয়ন শ্রমিক দলের প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি মীর আরমান। তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খুন করা হয়। গত ১৪ মাসে এলাকাটিতে চারজন খুন হয়েছেন। পুলিশ বলছে, সব কটি খুনের পেছনে রয়েছে পাহাড়ি এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বজায় রাখা।

এলাকার বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ইয়াসিনকে সরিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরের দখল নিতে গত বছরের ৫ আগস্টের পর হামলা চালান চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) রোকন উদ্দিনের বাহিনী। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন কাজী মশিউর, গাজী সাদেক ও গোলাম গফুর। কিন্তু ইয়াসিন বাহিনীর সঙ্গে তাঁরা পেরে উঠছেন না। কাজী মশিউররা রয়েছেন জঙ্গল সলিমপুরের সলিমপুর অংশে আর ইয়াসিন রয়েছেন আলীনগরে।

*আলীনগরের স্বঘোষিত রাজা ইয়াসিন*

জীবিকার সন্ধানে নোয়াখালী থেকে কয়েক বছর আগে ছোটভাই ফারুকসহ চট্টগ্রাম আসেন ইয়াসিন। এসে প্রথমে কিছুদিন সিএনজি অটোরিকশা চালাতেন চট্টগ্রাম শহরে। থাকতেন চট্টগ্রাম নগরের এক বস্তিতে। এরপর কিছুদিন চাকরি নেন একটি জুট মিলে। আরও কিছুদিন পর সীতাকুণ্ডের সলিমপুরের জঙ্গল সলিমপুরে একটি ঘর ভাড়া নেন। সেখানে নোয়াখালী থেকে কিছু সন্ত্রাসী এনে রাখতেন। এরপর পার্শ্ববর্তী দুর্গম পাহাড়ের একটি অংশ কেটে বিক্রি করা শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের নিয়ে আসেন সেখানে। গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী। শুরু করেন দেদারসে পাহাড় কাটা। পাহাড় কেটে একদিকে মাটি এবং অন্যদিকে জায়গা বিক্রি করতেন। ফলে রাতারাতি কোটিপতি বনে যান দুই ভাই। বিশাল একটা এলাকার নাম দেন আলীনগর। বাংলাদেশ থেকে করে নেন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

‘আলীনগর’ বাংলাদেশের ভিতরে অবস্থান হলেও দেশের কোন আইনই সেখানে কার্যকর ছিল না। সেখানকার অধিবাসীরা চলত তাদের রাজা ইয়াসিন ও ফারুকের নিজস্ব আইনে। আলীনগরের প্রবেশের তিনটি পথ ছিল। তিনটি পথেই সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতেন তার নিজস্ব সিকিউরিটির সদস্যরা। বাইরের কোন লোক ভিতরে প্রবেশ করতে পারতেন না। ভিতর থেকেও কেউ বাইরে যেতে পারতেন না। যতক্ষণ রাজার অনুমতি না পেতেন।

বসবাসকারীদের কোন অতিথি আসলে তাদের ভোটার আাইডি কার্ড অথবা জন্ম নিবন্ধন কার্ড নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। জমা দিতে হত সাথে আনা এন্ড্রয়েড ফোন। এখানে বসবাসকারীদেরও কেউ এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারতেন না। আর যারা এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা অর্থাৎ যারা জায়গা কিনে বসবাস করছেন তাদের ইয়াসিনের স্বাক্ষর করা বিশেষ পাস দেওয়া হত। পাস দেখিয়ে তারা ভিতর থেকে বাইরে ও বাহির থেকে ভিতরে প্রবেশ করতে পারতেন। এই রাজ্যের কেউ কখনো থানা বা অন্য কোথাও কোন অভিযোগ নিয়ে যেতে পারতেন না। সেটা যত বড় অপরাধ হোক না কেন বিচার হত ইয়াসিন ও ফারুকের আদালতে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুর একটি সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। খুব শিগগিরই আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেখানে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছে, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা রয়েছে, তাদের অভয়াশ্রম যে কোনোমূল্যে নির্মূল করা হবে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা আমরা ভেঙেচুরে গুড়িয়ে দেব। এসময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব সদস্য মোতালিব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় তার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।

জঙ্গল সলিমপুরে সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুত একটি যৌথ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য , চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি। এর বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে ৩ হাজার ১০০ একর জায়গায় জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। সীতাকুণ্ডে এটির অবস্থান হলেও এটি অনেকটা নগরের ভেতরেই। এর পূর্ব দিকে রয়েছে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ থানা। লিংক রোডসংলগ্ন এই এলাকায় প্রতি শতক জমির বাজারমূল্য ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা। সে হিসাবে দখল হয়ে থাকা সরকারি খাস জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করেই এলাকায় বছরের পর বছর ধরে সংঘর্ষ, খুনোখুনি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চলমান রয়েছে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]