• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৭ সেকেন্ড পূর্বে
আবুবকর সম্পদ
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০৪ বিকাল

ফাঁকা ক্যাম্পাসে নিয়োগ বোর্ড, বিতর্কে জবি উপাচার্য

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। সর্বশেষ ক্যাম্পাস বন্ধের সময় তড়িঘড়ি করে নিয়োগ বোর্ড বসানোকে কেন্দ্র করে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনকে ঘিরে যখন ক্যাম্পাস ছিল উৎসবমুখর, ঠিক তখনই প্রশাসনের হঠাৎ ক্যাম্পাস বন্ধের ঘোষণায় সেই পরিবেশ মুহূর্তেই অনিশ্চয়তায় রূপ নেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ভূমিকম্পের ঝুঁকির কারণেই ২৩ নভেম্বর থেকে ১৪ দিনের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ রাখা হবে এবং এ সময় অনলাইন ক্লাস চালু থাকবে।

তবে ছুটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শন ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হলেও সরেজমিনে তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। বরং এই বন্ধকালেই নিয়োগ বোর্ড বসানো নিয়ে রহস্য ও বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বন্ধের মধ্যে নিয়োগ বোর্ড আয়োজনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আপত্তি তুললেও উপাচার্য সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। সূত্রের দাবি, উপাচার্য বলেন—দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন নিয়োগ হচ্ছে, তখন তিনিও নিয়োগ দেবেন।

এদিকে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি অংশ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে যুক্ত। আবার কারও মতে, দুই রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য রাখা হয়েছে। তবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বললেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে শোকজ নোটিশ আসতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকেই মুখ খুলতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার না দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মিতু রানী রায়-এর নাম। তিনি অনার্সে সিজিপিএ ৩.৯০ এবং মাস্টার্সে ৩.৯২ পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পাশাপাশি তাঁর দুটি গবেষণা প্রবন্ধও রয়েছে। এতসব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নিজ বিভাগে প্রভাষক পদে সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক পরীক্ষার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “যে বিশ্ববিদ্যালয় নিজ শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে তুলতে পারে না, তাদের বেতন দেওয়ার নৈতিক অধিকার সরকারের থাকা উচিত নয়।”

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নিয়োগ শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আমি আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” বন্ধের মধ্যে নিয়োগ বোর্ড বসানো পরিকল্পনার অংশ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “No comment।”

অন্যদিকে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন বলেন, “ফাঁকা ক্যাম্পাসে নিয়োগ বোর্ড বসানো স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। নিয়োগ অবশ্যই নীতিমালা অনুযায়ী হতে হবে, এতে রাজনৈতিক প্রভাব বা স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই। যদি এমন প্রমাণ পাওয়া যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আমার দলের হলেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক ভাগাভাগির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোথাও আমাদের শিক্ষার্থীরা মূল্যায়ন পেয়েছে, কোথাও পায়নি—এটা স্বীকার করছি। আর জকসু নির্বাচনের সময় বোর্ড বসিয়ে প্রার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়ে থাকলে সেটি সমর্থনযোগ্য নয়। দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভাগাভাগির অভিযোগ সম্পর্কে নিশ্চিত নই, তবে সম্ভাবনা কম।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষক নিয়োগে রাজনীতি নয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”

মাসুম/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]