দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ইনসাফ বা ন্যায়বিচার না থাকার কারণেই দুর্নীতিবাজরা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে সেখানে ‘বেগমপাড়া’ গড়ে তুলেছে। এবার জনগণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরের আদর্শ স্কুল মাঠে জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দেশে সরকারি করের পাশাপাশি একটি ‘বেসরকারি ট্যাক্স’ চালু রয়েছে, যা রাস্তার পাশে বসে থাকা ভিক্ষুকদের কাছ থেকেও আদায় করা হয়। এই অবস্থাকে চরম অন্যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ট্যাক্সের নামে আর কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। ১০ দলীয় জোটকে ভোট দেওয়ার মানে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘হ্যাঁ’ ভোট।”
দেশে আর কোনো ভোট চুরি বা ভোট ডাকাতি দেখতে চান না উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা নিজেদের দলের লোকদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সহিংসতা থেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে, তারাই একটি সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ উপহার দিতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, ঘুণে ধরা রাজনীতি ও ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তনের জন্য আসন্ন গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষেই রায় দেবে। মানুষ আর ফ্যাসিবাদের কোনো ছায়া দেখতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে কোনো ধরনের অপমান বা অপকর্ম বরদাশত করা হবে না। কর্মক্ষেত্রসহ সর্বত্র নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি। “নারী-পুরুষ সবাই মিলে আমরা আগামীর বাংলাদেশ গড়ব। তবে মায়েদের ইজ্জতের প্রশ্নে কোনো আপস নেই,”—বলেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “নতুন পোশাকে যদি ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে, তবে তার পরিণতিও ৫ আগস্টের মতোই হবে।”
সমাবেশে শহীদ ওসমান হাদির স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আগে একজন ওসমান হাদি ছিল, এখন ১৮ কোটি হাদি তৈরি হয়েছে। ওসমান হাদি যে স্বপ্ন নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।”
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১০ দলীয় জোটের বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর