বাড়তে থাকা কাজের চাপ, বাজারদর ও ব্যক্তিগত সম্পর্কে টানাপোড়েন— সাধারণত এসব বিষয় মা-বাবা সন্তানের সামনে আলোচনা করেন না। কিন্তু মাঝে মধ্যেই তা প্রকাশ পেয়ে যায়। কখনো কখনো বাড়ির খুদে সদস্যটির ওপর অযথাই এসে পড়ে রাগ। আবার কেউ কেউ নিজের রাগ ও বিরক্তিও প্রকাশ করতে পারেন না। একেবারে নিশ্চুপ হয়ে যান। অভিভাবকদের এহেন আচরণে যে সন্তানদের মনের ওপর চাপ পড়তে পারে, তা হয়তো অনেকেই আমরা টের পাই না।
এ বিষয়ে মনোবিদরা বলছেন, আক্ষরিক অর্থে শিশুরা মানসিক চাপে না থাকলেও মা-বাবার ব্যবহার চুপিসারে তাদের আবেগ, অনুভূতি কিংবা আচরণ বদলে দিতে পারে। কারণ আবেগ ও অনুভূতির জায়গাটা ভীষণ স্পর্শকাতর। শিশুরা সবসময়ে অভিভাবকদের সঙ্গে এ বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে পারে না। তার ওপর সে যদি অনুভব করে মা-বাবা মানসিকভাবে কোনো সমস্যায় রয়েছেন, তাহলে নিজেরাই অপরাধবোধে ভুগতে শুরু করে। অভিভাবকদের আচরণ সন্তানের ওপরেও প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে।
আর কোনো কারণে যদি শিশুরা স্ট্রেসের মধ্যে থাকে, তখন তাদের আচার-আচরণে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশিই শান্ত হয়ে গেছে। আবার কারও ক্ষেত্রে উল্টোটাও হতে পারে। অর্থাৎ ভীষণ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গেও বাহ্যিক ব্যবহারে নানা রকম পরিবর্তন আসতে পারে।
অত্যধিক স্ট্রেস বা মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে শিশুদের আত্মবিশ্বাস একেবারে তলানিতে চলে যায়। অস্তিত্ব সংকট ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারে আপনার সন্তান। নিজেদের আবেগ, অনুভূতি ও ভালোমন্দ— কিছুই প্রকাশ করতে পারে না। নিজেদের বোঝা মনে করতে শুরু করে অনেক আপনার সন্তান। মন ভালো না থাকলে শিশুর শরীরেও প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে ঘুমের প্যাটার্ন বদলে যায়। অনিদ্রা, খেতে অনীহা, মাথাব্যথা ও পেটব্যথার মতো খুব সাধারণ উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অভিভাবকরা অনেক সময়ে এ ধরনের সমস্যাকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। তবে মনোবিদরা বলছেন, খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে— এ ধরনের সমস্যার উৎস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর