সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে ঘরে ফিরে একটু প্রশান্তি পেতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঘরের কোনো বিকল্প নেই। তবে একা থাকা বা ব্যাচেলর জীবনে প্রতিদিন ঘর গোছানো অনেকের কাছেই বেশ পাহাড় সমান কষ্টের কাজ মনে হয়।
অথচ সামান্য কিছু কৌশল আর অভ্যাসের পরিবর্তন আনলে ব্যাচেলরদের শোবার ঘরও হয়ে উঠতে পারে পরিপাটি ও আরামদায়ক।
ঘর গোছানোর এই প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপ হলো অহেতুক জিনিসপত্রের আধিক্য কমানো। বিছানায় যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বালিশ বা চাদর থাকে, তবে তা প্রতিদিন গোছাতে আলসেমি আসা স্বাভাবিক।
তাই অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন এবং ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভারী কম্বল বা কমফোর্টার তুলে রাখুন। বিছানায় জিনিসের পরিমাণ যত কম হবে, তা গোছানো ততটাই সহজ হবে।
ঘর গোছানোকে কষ্টের কাজ না ভেবে দিনের রুটিনের অংশ বা অভ্যাসে পরিণত করা জরুরি। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হওয়ার পরপরই বিছানা গুছিয়ে ফেলার অভ্যাস করুন। চাদর টেনে সমান করা এবং বালিশগুলো সাজিয়ে রাখার কাজে মাত্র কয়েক মিনিট ব্যয় করলেই ঘরটি দেখতে অনেকটা পরিচ্ছন্ন লাগে।
এছাড়া পুরো ঘর প্রতিদিন পরিষ্কার করার সময় না পেলেও সপ্তাহে অন্তত একদিন বা মাসে দুদিন বড় ধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত। এতে ঘরে যেমন ধুলোবালির স্তূপ জমবে না, তেমনি মনের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হবে না।
ব্যাচেলরদের ঘরের অধিকাংশ অগোছালো ভাবের মূলে থাকে যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা কাপড়। ঘরের চেয়ার কিংবা বিছানায় কাপড় স্তূপ করে না রেখে হ্যাঙ্গার ব্যবহার করে ঝুলিয়ে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। নোংরা কাপড়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট লন্ড্রি ব্যাগ বা ঝুড়ি ব্যবহার করলে ঘর যেমন পরিপাটি দেখাবে, তেমনি নির্দিষ্ট দিনে সেগুলো ধুতেও সুবিধা হবে।
পাশাপাশি জরুরি কাগজপত্র বা প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ওষুধ বিছানার পাশে না ফেলে রেখে ড্রয়ার বা ছোট একটি টেবিলের একপাশে গুছিয়ে রাখুন। এর ফলে প্রয়োজনে সেগুলো যেমন দ্রুত খুঁজে পাওয়া যাবে, তেমনি ঘরও থাকবে বাড়তি জঞ্জালমুক্ত।
মূলত সামান্য গোছানোর মানসিকতা থাকলে একার সংসার বা ব্যাচেলর জীবনেও ঘরকে সাজানো সম্ভব এক টুকরো শান্তির নীড় হিসেবে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর