ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) সংসদীয় আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বাটাজোড় এলাকায় গণসংযোগ করতে গেলে ধানের শীষের সমর্থকেরা তার ওপর হামলা চালায়। পরে স্থানীয়রা তাকে গাড়িতে তুলে নিরাপদে সরিয়ে দেন।
ঘটনার খবরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা ভালুকা পৌর সদর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু’র কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির দলীয় লোকজন জড়ো হয়ে পৌর ছাত্রদলের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর পৌর সদরের কার্যালয় ও সিডস্টোর বাজারের যুবদলের কার্যালয়েও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রচারণার সময় ধাক্কা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। চার-পাঁচটি স্থানে এই ঘটনা ঘটেছে, কাজ চলছে।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলম জানান, “তিন দিন ধরে ধানের শীষের সমর্থকরা আমাদের বাধা দিচ্ছিল। সন্ধ্যায় গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছি। স্থানীয়রা আমাকে নিরাপদে সরিয়েছে। আমার দলীয় কার্যালয় ও ছাত্রদলের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ হয়েছে।”
ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।”
ভালুকা মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামও বলেন, “এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে এবং পুলিশ সতর্ক রয়েছে।”
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর