স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ের কবলে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর্কটিক অঞ্চল থেকে আসা তীব্র শীতল বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, এই চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি স্থানীয় সময় সোমবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে তীব্র শীতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভাসমান মানুষের বসবাস রয়েছে। শহরের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সরাসরি শীতজনিত কারণে মারা গেছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে টেক্সাসে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে লুইজিয়ানায় হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুইজন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ।
ঝড়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী একটি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত পর্যন্ত ৮ লাখ ৪০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দা।
বিশেষ করে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বরফের ভারে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হওয়ায় ৩ লাখের বেশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ হারান। একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে লুইজিয়ানা, মিসিসিপি ও জর্জিয়াতেও, যেখানে কয়েক লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন।
ঝড়ের কারণে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। টেক্সাস থেকে নর্থ ক্যারোলাইনা, এমনকি নিউইয়র্ক পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
টেক্সাসের জরুরি পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনা বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, “একান্ত প্রয়োজন না হলে রাস্তায় বের হবেন না।”
স্থানীয় সময় রোববার ঝড়টি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হয়ে ফিলাডেলফিয়া, নিউইয়র্ক ও বোস্টনের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে তুষার ও শিলাবৃষ্টি ঝরিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কমপক্ষে ২০টি অঙ্গরাজ্য এবং রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, চরম শীত ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাই জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর