মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রশাসন বিষয়টি “সব দিক থেকে পর্যালোচনা করছে”। একই সঙ্গে রিপাবলিকান দলসহ বিভিন্ন মহল থেকে স্বাধীন ও বিস্তৃত তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
রোববার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা দেখছি, সবকিছু রিভিউ করছি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে।” ফেডারেল এজেন্টের গুলি চালানো যথাযথ ছিল কি না- এ প্রশ্ন তাকে একাধিকবার করা হলেও তিনি সরাসরি উত্তর দেননি।
ট্রাম্প বলেন, “আমি কোনো ধরনের গুলিবর্ষণই পছন্দ করি না। কিন্তু কেউ যদি পুরোপুরি লোড করা শক্তিশালী অস্ত্র ও অতিরিক্ত ম্যাগাজিন নিয়ে কোনো বিক্ষোভে যায়, সেটাও ভালো দেখায় না।” তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ৩৭ বছর বয়সী নিবন্ধিত নার্স অ্যালেক্স প্রেটির হাতে অস্ত্র নয়, একটি মোবাইল ফোন ছিল। এই ভিডিও ফুটেজ ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে বলা হয়েছিল প্রেটি কর্মকর্তাদের ‘হত্যার হুমকি’ দিয়েছিলেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, একপর্যায়ে মিনিয়াপোলিস এলাকা থেকে আইস (ICE) ও অন্যান্য ফেডারেল এজেন্ট প্রত্যাহার করা হতে পারে, যদিও নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি। তিনি বলেন, “কোনো এক সময় আমরা চলে যাব। তারা দারুণ কাজ করেছে।” তবে আর্থিক জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্তের জন্য সেখানে ভিন্ন একটি দল রেখে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
এদিকে মিনেসোটায় ফেডারেল এজেন্টদের কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। রাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ ট্রাম্পকে সরাসরি এজেন্ট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “আপনি চাইলে আজই এটা শেষ করতে পারেন।” রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও প্রেটি হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তার স্ত্রী মিশেল ওবামা এক বিবৃতিতে প্রেটির মৃত্যুকে “একটি ট্র্যাজেডি” বলে উল্লেখ করে স্বচ্ছ তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছেন।
অন্যদিকে, নিহত অ্যালেক্স প্রেটির পরিবারের সহায়তায় চালু করা একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ অভিযানে ইতোমধ্যে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের হাতে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী ঘটনার ঘটনা। ফলে মিনেসোটায় অভিবাসন অভিযান, বলপ্রয়োগ এবং ফেডারেল সরকারের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর