আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চার দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী যৌথভাবে আয়োজন করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান অতিথি হিসেবে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন।
২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, এনডিসি, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সদস্য (বিনিয়োগ ও পার্ক সমন্বয়) ও আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসান এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, এনডিসি বলেন, মিসইনফরমেশন ও ক্ষতিকর ন্যারেটিভ মোকাবিলায় মাল্টিপল ডিপার্টমেন্ট ও এজেন্সির সমন্বয়ে একটি হাই-পাওয়ার কমিটি কাজ করছে। ১৫ সদস্যের একটি টিম নিয়মিতভাবে মনিটরিং করছে। একইসঙ্গে আমাদের ২১জন প্রকৌশলী ২৪ ঘণ্টা এই কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
সন্দেহজনক পোস্ট ফ্যাক্ট চেক করা হচ্ছে জানিয়ে শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সন্দেহজনক পোস্ট বা কনটেন্ট শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিশ্লেষণ ও ফ্যাক্ট চেক করা হয়। যাচাই শেষে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়। সেখান থেকে বিষয়টি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছে যাচ্ছে।
কনটেন্ট টেকডাউন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাইবার সেফটি অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষ দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। বিটিআরসি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে রিপোর্ট করলে তারা তাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কনটেন্ট পর্যালোচনা করে। অনেক বানান বা উপস্থাপনা কৌশলে নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবুও গত এক মাসে রিপোর্ট করা কনটেন্টের ২৯ শতাংশ টেকডাউন করা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, হাই-টেক পার্কের সফলতা এখন দৃশ্যমান। এর কল্যাণে জেলা, উপজেলা এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও প্রযুক্তির সুফল পাচ্ছে। এবারের এক্সপোতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের সেরা উদ্ভাবনগুলো প্রদর্শিত হবে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত অংশগ্রহণ বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরবে।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সদস্য (বিনিয়োগ ও পার্ক সমন্বয়) ও আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, এই এক্সপো কেবল প্রযুক্তি প্রদর্শনের স্থান নয়। এটি বাংলাদেশের বিনিয়োগ সক্ষমতা, নীতিগত প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তব প্রতিফলন। একটি সংযুক্ত, বিনিয়োগবান্ধব ও টেকসই ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, এই এক্সপোতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন ও দেশীয় প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন সেমিনার ও জ্ঞানভিত্তিক আয়োজন থাকবে। এছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আইসিটি খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, তরুণদের অংশগ্রহণ, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে এই এক্সপো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
বিসিএস মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, প্রথম দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রদর্শনী রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। অন্যান্য দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীতে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও অনলাইনে (www.ddiexpo.com.bd) অথবা স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে।
মেলায় বিভিন্ন পণ্যে ছাড় ও অফারের বিষয়ে জানানো হয়, কম্পিউটারের পাশাপাশি ৪০ শতাংশ ব্র্যান্ড ফোনে ছাড় পাবেন গ্রাহক। দেখা দিতে পারে স্যামসাং এর তিন ভাঁজের স্মার্টফোন। অনার আনছে ডিপ ফেইক ভিপ ফেইক ভিডিও শনাক্তের ডিভাইস আনছে অনার। শাওমি ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় ও ১০ হাজার টাকা সমমূল্যের উপহার। ভাগ্যবানদের জন্য লেনেভো দেবে ই-বাইক।
এক্সপোতে থাকবে ইনোভেশন জোন, ডিজিটাল ডিভাইস জোন, মোবাইল জোন, ই-স্পোর্টস জোন এবং বিটুবি জোন। ডিজিটাল ডিভাইস জোন এবং মোবাইল জোনে পছন্দমত পণ্য ক্রয়ের সুযোগ।
প্রদর্শনী চলাকালে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ৫টি সেমিনার এবং ৪টি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
সেমিনারের ভেন্যুও সময় ও শিরোনামসমূহ ২৮ জানুয়ারি বিকাল ২:৩০ মিনিট থেকে ৩:৩০ মিনিট পর্যন্ত উইন্ডি টাউন হলে অনুষ্ঠিত সেমিনারের বিষয় হলো- ‘ফ্রম ভিশন টু রিয়্যালিটি: দ্য ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ট্রাজেক্টরি অব বাংলাদেশ’।
২৯ জানুয়ারি সকাল ১০:০০টা থেকে থেকে ১১টা পর্যন্ত উইন্ডি টাউন হলে অনুষ্ঠিত সেমিনার বিষয় হলো-‘বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কস: অ্যা গেটওয়ে টু গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট’।
একই দিনে বিকাল ২:৩০ মিনিট থেকে ৩.৩০ মিনিট পর্যন্ত উইন্ডি টাউন হলে অনুষ্ঠিত সেমিনার বিষয় হলো- ‘বিল্ডিং অ্যা সাসটেইনেবল আইসিটি স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম: অপরচুনিটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’।
অন্যদিকে উইন্ডি টাউন হলে বিকাল ৪:০০টা থেকে ৫:৩০ মিনিট পর্যন্ত ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার: মিথ ভার্সেস রিয়্যালিটি সেমিনার’ শীর্ষক সেমিনার হবে।
৩০ জানুয়ারি সকাল ১০:০০টা থেকে ১১:০০ পর্যন্ত উইন্ডি টাউন হলে অনুষ্ঠিত সেমিনার বিষয় হলো- ‘অ্যাকসেস টু ফাইন্যান্স টুওয়ার্ডস অপরচুনিটি: ফাইন্যান্সিং অ্যান্ড ডিজিটাল ডিভাইসেস ফর স্টুডেন্টস টু বিল্ড অ্যান ইন্টেলিজেন্ট সোসাইটি’।
প্যানেল আলোচনার ভেন্যুও সময় ও শিরোনামসমূহ ২৮ জানুয়ারি বিকাল ৪:০০টা থেকে ৫.৩০ মিনিট পর্যন্ত উইন্ডি টাউন হলে প্যানেল আলোচনার বিষয় হলো- ‘ব্রিজিং গ্যাপস ইন দ্য ইনোভেশন ইকোসিস্টেম: হোয়াট বাংলাদেশ নিডস টু ডু’।
২৯ জানুয়ারি সকাল ১১:৩০টা থেকে দুপুর ০১:০০ মিনিট পর্যন্ত উইন্ডি টাউন হলে অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনার বিষয় হলো- ‘ফ্রম কনজিউমারস টু ক্রিয়েটরস: পজিশনিং বাংলাদেশ ইন দ্য গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর অ্যান্ড ডিপ-টেক ভ্যালু চেইন’।
৩০ জানুয়ারি সকাল ১১:৩০টা থেকে দুপুর ০১:০০টা পর্যন্ত উইন্ডি টাউন হলে অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনার বিষয় হলো- ‘বাংলাদেশ টু দ্য ওয়ার্ল্ড- ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড এক্সপোর্ট ভিশন’।
একই দিনে উইন্ডি টাউন হলে বিকাল ৩:০০টা থেকে ৪:৩০ মিনিট পর্যন্ত ‘এনেবলর্স অব দ্য ডিজিটাল নেশন: টেলকো অ্যাজ দ্য ফাউন্ডেশন অব ইনক্লুসিভ ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
সেমিনারে দেশের বরেণ্য তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করবেন। প্রতিদিনই থাকবে বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের বিশেষায়িত প্রদর্শনী ও কুইজ প্রতিযোগিতা।
স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের আওতায় থাকবে, যা দর্শনার্থীদের এই অত্যাধুনিক ইন্টারনেট প্রযুক্তি সরাসরি ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে।
চার দিনের প্রদর্শনীতে গোল্ড স্পন্সর হিসেবে থাকছে ইপসন, অনর, এইচপি, লেনোভো, অপো, স্যামসাং, টেকনো ও শাওমি। সিলভার স্পন্সর হিসেবে থাকছে এসার, গিগাবাইট, নেটিস, টিপি-লিংক ও ইউসিসি। এছাড়া স্টারলিংক পার্টনার হিসেবে থাকছে স্টারলিংক ফিলিসিটি আইডিসি।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, আইডিয়া প্রকল্প এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর