২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নজিরবিহীনভাবে বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। চলতি সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের মূল্য আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম উঠেছে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়।
এ পরিস্থিতিতে সঞ্চয়কারী থেকে শুরু করে বড় বিনিয়োগকারী—সবাই কেন স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনপ্রিয় এই ধাতুর দাম এত দ্রুত বাড়ার পেছনে মূলত চারটি কারণ কাজ করছে।
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ আশ্রয়স্থল
সাধারণত অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়লেই স্বর্ণের দামও লাফিয়ে বাড়ে। চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্যযুদ্ধ, নতুন শুল্ক আর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে দূরে সরিয়ে নিরাপদ সম্পদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর এই ‘সেফ হেভেন’ সম্পদের তালিকায় সবচেয়ে উপরে আছে স্বর্ণ।
ব্যাপক পরিমাণ স্বর্ণ কিনছে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক
স্বর্ণের দাম বাড়ার বড় কারণ হলো বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাপক স্বর্ণ কেনা। চীন ও ভারতসহ বহু দেশ ডলার নির্ভরতা কমিয়ে রিজার্ভে বেশি স্বর্ণ রাখার কৌশল নিয়েছে। ডলারের মূল্যের ওঠানামা থেকে নিজেদের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করতেই এই পদক্ষেপ।
ডলারের শক্তি নিম্নমুখী
এদিকে মার্কিন ডলারের শক্তি কমে চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিম্নমুখী অবস্থায় পৌঁছেছে। যেহেতু স্বর্ণের আন্তর্জাতিক মূল্য সাধারণত ডলারে নির্ধারিত হয়, ডলার দুর্বল হলে অন্যান্য মুদ্রায় স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়। ফলে চাহিদা বাড়ে, আর দামও বাড়তে থাকে।
অপরিবর্তিত সুদহার
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। নিম্ন বা স্থিতিশীল সুদের হার মানে ব্যাংক আমানতে লাভ কম। এ অবস্থায় সুদ না দিলেও স্বর্ণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কারণ এর মূল্য দীর্ঘমেয়াদে বাড়ে।
২০২৬ সালের বাকি সময়েও এই স্বর্ণের উত্থান অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গোল্ডম্যান স্যাক্সসহ বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বর্ণের দাম আরও বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, বছরের শেষে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৬ হাজার ডলার স্পর্শ করতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর