ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নড়াইল-২ আসনে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নির্বাচনী মাঠে জমে উঠছে ভোটের লড়াই। শহর থেকে গ্রামে সভা সমাবেশ, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা।
স্থানীয় ভোটারদের ধারণা, এ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ আসনটিতে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পাটি ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাচাই শেষে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হান্নান সরদার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় বর্তমানে ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন।
বর্তমানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আতাউর রহমান বাচ্চু (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা তাজুল ইসলাম (হাতপাখা), জাতীয় পাটির প্রার্থী খন্দকার ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ (লাঙ্গল), গণ অধিকার পরিষদের (জিওপি) মনোনীত প্রার্থী লায়ন নূর ইসলাম (ট্রাক), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মো. শোয়েব আলী (ছড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সদ্য বহিস্কৃত মো. মনিরুল ইসলাম (কলস), মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন (জাহাজ) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার করছেন।
লোহাগড়া উপজেলা ও নড়াইল সদর উপজেলার (আংশিক) দুটি পৌরসভা এবং ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে নড়াইল-২ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার ১৬৪ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩২, তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ৪ জন। এর মধ্যে লোহাগড়া উপজেলার ২ লাখ ২০ হাজার ৬১৬ জন এবং নড়াইল সদর উপজেলার (আংশিক) এলাকায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৮ জন। লোহাগড়া উপজেলার পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯ হাজার ১৯১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ১১ হাজার ৪২৩, তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ২ জন। নড়াইল সদর উপজেলার (আংশিক) পুরুষ ভোটার ৮০ হাজার ৯৩৭ জন, নারী ভোটার ৮৪ হাজার ৬০৯, তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ২ জন।
নড়াইল-২ আসনের নির্বাচনী ইতিহাস ১৯৮৬ সালে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী। ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী, ১৯৯৬ সালে বিজয়ের হাসি হাসে বিএনপি। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে জয় পায় বিএনপি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী, ২০১৪ সালে নির্বাচিত হন জোটসঙ্গী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হাফিজুর রহমান। এরপরের দুইটি নির্বাচনেও জয় ধরে রাখে দলটি। আর সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তবে এবার রাজনৈতিক সমীকরণ ভিন্ন রূপ নিচ্ছে। ভোটারদের মতে, বিএনপি প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদের ধানের শীষ, জামায়াত প্রার্থী আতাউর রহমান বাচ্চুর দাঁড়িপাল্লা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলামের কলস প্রতীকের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) স্বতন্ত্র প্রার্থী নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সদ্য বহিস্কৃত মো. মনিরুল ইসলামকে সমর্থন করায় নড়াইল সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম পলাশ, পৌর বিএনপির সভাপতি তেলায়েত হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহাদুজ্জামান বাটু, সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, লোহাগড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মিলু শরীফ, সাধারণ সম্পাদক মশিয়ার রহমান সান্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে তাদেরকে বহিস্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
ভোটারদের মধ্যে চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। সাধারণ মানুষ চাইছেন এমন একজন জনপ্রতিনিধি, যিনি জনগণের পাশে থাকবেন এবং এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। রাজনৈতিক পর্যেবক্ষকদের মতে, নড়াইল-২ আসনে এবারের নির্বাচন বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। এখন অপেক্ষা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে কার পক্ষে ব্যালট ভারী হয়।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর