পটুয়াখালী-০৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. নুরুল হক নুর শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জনপদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। আজ নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এই ইশতেহারের কথা জানান।
পোস্টে নুর উল্লেখ করেন, দ্বীপবেষ্টিত ও দীর্ঘদিন অবহেলিত এই জনপদের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি লেখেন, অর্থনৈতিক সংকটে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম তাকে স্কুলজীবন থেকেই গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
রাজনীতিতে আসার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পথে না গিয়ে রাজনীতিকে বেছে নিয়েছেন। গলাচিপা-দশমিনায় বিদ্বেষ ও হানাহানি দূর করে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠাই তার প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
ইশতেহারে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন, আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার সংস্কার, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে নুর বলেন, রাস্তা-ঘাট সম্প্রসারণ ও পাকাকরণ, নতুন সেতু নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় এলাকায় ফেরি চালুর মাধ্যমে সড়ক ও নৌ যোগাযোগ আধুনিক করা হবে। দুর্গম এলাকাতেও কম খরচে, দ্রুত ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষা খাত নিয়ে তার পরিকল্পনায় রয়েছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় আধুনিক ভবন, শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞান ও কম্পিউটার ল্যাব, ভাষা ও বিতর্ক ক্লাব গড়ে তোলা। দরিদ্র, অসহায় ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। নুর বলেন, টাকার অভাবে যেন কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ না হয়—এটাই তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে তিনি জানান, গলাচিপা-দশমিনার কৃতী সন্তানদের উদ্যোগে বেসরকারি পর্যায়ে দুটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে নামমাত্র মূল্যে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা জোরদার করা হবে। দুর্গম দ্বীপাঞ্চলের রোগীদের জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সহজলভ্য করার কথাও বলেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়নে গলাচিপার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন একটি থানা এবং দশমিনার দুর্গম এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান নুর। তিনি বলেন, গলাচিপা ও দশমিনায় আদালতে শতভাগ জনবল নিশ্চিত করে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। থানা, অফিস ও আদালতকে জনবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত করার পাশাপাশি সালিশ-বাণিজ্য বন্ধ করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, গলাচিপা-দশমিনায় বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়সহ সকল নাগরিকের সমঅধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নির্বিঘ্নে জীবনযাপন করতে পারবে এবং সমাজে কোনো হিংসা বা বিদ্বেষের স্থান থাকবে না।
কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারি হিমাগার স্থাপন, কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা এবং শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন নুর। তিনি বলেন, কাজের সন্ধানে আর কাউকে ঢাকা বা চট্টগ্রামে যেতে হবে না। পাশাপাশি পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে ইকো-ট্যুরিজম জোন গড়ে তোলা এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান।
যুব ও নারী সমাজকে নিয়ে তার পরিকল্পনায় রয়েছে আইসিটি পার্ক, ইনকিউবেশন সেন্টার ও ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যুবকদের দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। পাশাপাশি হস্ত ও কুটির শিল্প বিস্তারের মাধ্যমে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ‘চর, খাল, স্লুইসগেটগুলোকে দখলদারিত্বের হাত থেকে মুক্ত করে জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করা হবে। সরকারি খাস জমি ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে স্বচ্ছতার সাথে বণ্টন করা হবে। তরমুজ চাষিসহ খামারি ও কৃষকদের শস্য বাজারজাত করণে কাউকে কোনো পয়সা দিতে হবেনা। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌড়াত্ম্য বন্ধ করা হবে। কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্যে ফসল বিক্রি করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর