ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নিজ বাড়ি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী অনন্য গাঙ্গুলীর (২৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কোটচাঁদপুর বাজার পাড়ার হাইস্কুল সড়কে তাদের নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত অনন্য গাঙ্গুলী ওই এলাকার সাবেক প্রভাষক প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলীর ছেলে। তার মা রাধা রানী গাঙ্গুলী কোটচাঁদপুর বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরেন অনন্য। রাতে পরিবারের সঙ্গে খাবার খেয়ে তিনি নিজের ঘরে ঘুমাতে যান। রোববার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে তার মা নাশতা খাওয়ার জন্য ডাকতে গেলে কোনো সাড়া পাননি। পরে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে ঘরের ভেতরে তাকিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অনন্যকে দেখতে পান। এ সময় দ্রুত পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বজনদের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
অনন্য গাঙ্গুলী ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে একাধিকবার বৃত্তি লাভ করেন। ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার পাশাপাশি যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে সাধারণ বৃত্তি অর্জন করেন। দীর্ঘ প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন তিনি।
তবে কলেজে পড়ার সময় শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে প্রায় পাঁচ বছর পড়াশোনা থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হন অনন্য। পরবর্তীতে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়ে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
নিহতের মা রাধা রানী গাঙ্গুলী বলেন, “সে বাড়িতে এসে আগের মতোই স্বাভাবিক আচরণ করেছে। আমার সঙ্গে কখনো কোনো বিষয়ে মনোমালিন্য হয়নি। কেন সে এমন সিদ্ধান্ত নিল, তা বুঝতে পারছি না।”
কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনায়েত আলী খন্দকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর