কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন ইস্যুতে কংগ্রেসের তদন্তে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ২০১৬ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিল ক্লিনটনের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেন, ক্লিনটন দম্পতির এই সিদ্ধান্তের ফলে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে তাদের বিরুদ্ধে ‘অবমাননা’ অভিযোগে ভোটাভুটির সম্ভাবনা আপাতত এড়ানো যেতে পারে। ওই ভোটাভুটির মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার পথও খুলে যেতে পারত।
ক্লিনটন দম্পতির ডেপুটি চিফ অব স্টাফ অ্যাঞ্জেল উরেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত থাকবেন। সবার জন্য প্রযোজ্য এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে তারা আগ্রহী।’
এর আগে প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির এক বিবৃতিতে ক্লিনটন দম্পতিকে আইনসম্মত সমন অমান্য এবং বিশেষ সুবিধা চেয়ে অবমাননা এড়ানোর চেষ্টা করার অভিযোগ করা হয়। কমিটির বক্তব্য ছিল, ‘ক্লিনটনরা আইনের ঊর্ধ্বে নন।’
গত সপ্তাহে ওভারসাইট কমিটি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে অবমাননার সুপারিশ করেছিল। উপস্থিত না থেকে ক্লিনটনরা তদন্তে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাদের দাবি ছিল, এই তদন্ত মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রক্ষার প্রচেষ্টা, যিনি দীর্ঘদিন এপস্টিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
এদিকে রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন ক্লিনটনদের সাক্ষ্য দিতে সম্মত হওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, পরিকল্পিত অবমাননা ভোট বাতিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলেননি। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভালো অগ্রগতি। আমরা আশা করি সবাই কংগ্রেসের সমনে সাড়া দেবে।’
ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করছেন, ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের আক্রমণের জন্য এই তদন্তকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন এপস্টিনের সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পকে এখনো সাক্ষ্যের জন্য ডাকা হয়নি।
জানা গেছে, বিল ক্লিনটন ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর, কয়েকবার এপস্টিনের বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি পরে এই সম্পর্কের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার কোনো অর্থবহ যোগাযোগ ছিল না, তিনি কখনো তার বিমানে ওঠেননি বা ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি।
এপস্টিন কেলেঙ্কারি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘ ছায়া ফেলছে এবং এর প্রভাব যুক্তরাজ্যেও পড়েছে। এই ঘটনায় যুক্ত হয়েছেন ব্রিটেনের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও।
সোমবার যুক্তরাজ্যের পুলিশ জানায়, এপস্টিন-সংক্রান্ত মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে ম্যান্ডেলসনের নাম পাঁচ হাজারের বেশি বার উঠে আসার পর তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। গত বছর প্রকাশিত এক ইমেইলে দেখা যায় তিনি এপস্টিনকে “আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু” বলে সম্বোধন করেছিলেন। এরপরই ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
সূত্র: আল জাজিরা।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর