নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় পরিবর্তন আসায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা রশিতে ঝোলানো কিংবা দেয়ালে সাঁটানো শতশত সাদা-কালো কাগজের পোস্টার ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে কাগজের জায়গায় ব্যানার-ফেস্টুন ও ডিজিটাল মাধ্যমে ঝুঁকে পড়েছেন তাঁরা। বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউব এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো হয়ে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যম।
এতে নির্বাচনী প্রচারণার সেই চিরচেনা দৃশ্যে এবার চোখে পরছেনা। সেই সঙ্গে প্রচার-প্রচারণাতে ঝিমানি ভাব দেখা দিয়েছে। এবার পোস্টার না থাকায় জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা অনেকটাই জৌলুস হারিয়েছে। ভোটাররাও বুঝতে পারছেন না নির্বাচনের আমেজ। অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরও চিনতে পারছেন না।
বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে যেত পাড়া-মহল্লার অলিগলি। রাস্তায় বিভিন্ন মোড়ে ও দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার সাঁটানো চোখে পড়তো। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকা এবং বাসস্ট্যান্ড থেকে পুরাতন বাজার পর্যন্ত পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে যেত। এবার সারাদেশের মতো বগুড়ার নন্দীগ্রামেও কাগজের পোস্টার রশিতে ঝোলানো কিংবা দেয়ালে সাঁটানো না থাকায় গ্রামে ও পাড়া-মহল্লার অলিগলি ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।
সচেতন ভোটাররা এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাদের মতে, পোস্টারের কারণে আগে রাস্তাঘাট নোংরা হতো। বিপুল পরিমাণ কাগজ বর্জন করায় পরিবেশের জন্য উপকার হবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, কাগজের পোস্টার না থাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় ভাটা পড়েছে।
নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার ভোটার সবুজ কুমার সরকার বলেন, এখন মোবাইলেই সব প্রার্থীর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ফেসবুক, ইউটিউব ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রার্থীদের সম্পর্কে জানা যায়। পোস্টারের কারণে রাস্তাঘাট নোংরা করা ও পরিবেশ নষ্ট করার দরকার নাই।
উপজেলার রিধইল গ্রামের ভোটার একাব্বর হোসেন পুটু বলেন, চারিদিকে পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে যাবে। একটা সাজসাজ রব বিরাজ করবে। তবেই নির্বাচনের আমেজ পাওয়া যাবে। এবছর সেই চিরচেনা রূপ চোখে পড়ছে না।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর