দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা সংস্থার পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের পর অমর একুশে বইমেলা আয়োজনের আহ্বান জানানো হলেও পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই মেলা শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমি। একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলার প্রস্তুতিমূলক কাজের ৬০ শতাংশের বেশি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়ায় সময় পরিবর্তনের আর সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
তিনি বলেন, রমজান মাসকে সামনে রেখে এবারের বইমেলার সময়সূচি এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। ছুটির দিনগুলোতে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। পাশাপাশি তারাবির নামাজ, ইফতার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখাসহ রমজানকেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, “রমজানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যতটুকু সম্ভব বইমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের জন্য তারাবির নামাজ, ইফতার ও পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।” তিনি জানান, আয়োজনের কাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
বইমেলা পেছানোর দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, “এপ্রিল মাসে বইমেলা আয়োজনের কথা আমরা ভাবতেই পারছি না। আমাদের প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি শেষ। এই পর্যায়ে এসে মেলা পেছানো বাংলা একাডেমি ও মেলা কমিটির পক্ষে সম্ভব নয়।”
এ সময় অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর সদস্য-সচিব ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে মাসব্যাপী বইমেলা ও অনুষ্ঠানমালা এখন জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনিবার্য বাস্তবতার কারণে এবার পহেলা ফেব্রুয়ারিতে মেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। সে কারণেই ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের তুলনায় এবার স্টলভাড়া ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে, যদিও সার্বিক আয়োজন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইতোমধ্যে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ, স্টল নির্মাণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ মেলা সংশ্লিষ্ট প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
ড. সেলিম রেজা বলেন, এবছর মোট ৫৫১টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের ৫২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং নতুন ২৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্থান সংকুলানের সীমাবদ্ধতার কারণে সব আবেদনকারীকে স্টল দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “মেলা যখন প্রায় ৬০ শতাংশ সম্পন্ন, তখন কিছু প্রকাশক ঈদের পর বইমেলা আয়োজনের প্রস্তাব দেন। কিন্তু এপ্রিল মাসে প্রচণ্ড গরম, ধুলোবালি, কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির আশঙ্কার কারণে তখন মাসব্যাপী বইমেলা আয়োজন বাস্তবসম্মত নয়।”
উল্লেখ্য, নির্বাচনের কারণে এবার প্রথাগত সময়সূচি পরিবর্তন করে ২০ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে, যা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। এছাড়া শুক্রবার বেলা ১টা থেকে ৩টা এবং শনিবার বেলা ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত মেলায় বিরতি থাকবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর