নবম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে উপজেলা পরিষদের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
বাংলাদেশ ৪র্থ শ্রেণি কল্যাণ সমিতি গৌরীপুর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক খান মোস্তফা। সমাবেশে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম মাজহারুল আনোয়ার ফেরদৌস, পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. আতাউর রহমান, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, শিক্ষা অফিসের মো. মাসুদ রানা, নির্বাচন অফিসের মো. ইদ্রিস মিয়া, হিসাব রক্ষণ অফিসের মির্জা মাসুদ, সহকারী শিক্ষক সানজিদা ইয়াসমিন, মৎস্য অফিসের নুপুর আক্তার, সমাজসেবা অফিসের মো. জিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীরা ন্যায্য বেতন কাঠামো থেকে বঞ্চিত। বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অযথা গড়িমসি করছে, যা কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের উচ্চমান সহকারী মো. এনামুল হক বলেন, “আমরা মাঠ পর্যায়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করি। কিন্তু ন্যায্য বেতন কাঠামো না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। দ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।”গৌরীপুর সরকারি কলেজের প্রধান সহকারী মো. কামরুজ্জামান বলেন, “সরকারি কর্মচারীরাই রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি। অথচ আমাদের ন্যায্য দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত।”উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মো. মাসুদ রানা বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাস করি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে। আমরা কারও বিরুদ্ধে নই, আমরা শুধু আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই।”
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মো. নুরুজ্জামান, যুব উন্নয়ন অফিসের মো. নোবেল, উপজেলা নির্বাচন অফিসের মো. ইদ্রিস আলী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসের অফিস সহকারী মো. হুমায়ুন কবির। বক্তারা আরও বলেন, দ্রুত দাবি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক না হলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে একাত্ম হয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।
বিক্ষোভ চলাকালে কর্মচারীরা বিভিন্ন স্লোগানে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানান। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর