যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন একটি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান চিফ অব স্টাফ আবদোলরহিম মুসাভি এবং আইআরজিসির এয়ারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভির উপস্থিতিতে ঘাঁটিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ঘাঁটি উন্মোচনের সময় সেখানে আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলোর সক্ষমতা ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে কৌশলগত এই ইউনিটের অগ্রগতি, প্রস্তুতি এবং যুদ্ধকালীন সক্ষমতা সম্পর্কে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিস্তারিত ব্রিফ করা হয়।
ঘাঁটি পরিদর্শনকালে আবদোলরহিম মুসাভি বলেন, ‘প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি আরও সুসংহত করেছে। এর ফলে দেশের প্রতিরোধক্ষমতা বহুগুণে বেড়েছে। শত্রুপক্ষের যেকোনো পদক্ষেপ মোকাবিলায় আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
তিনি আরও জানান, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর ইরান তার সামরিক মতবাদে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। মুসাভির ভাষায়, ‘আমরা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে এখন আক্রমণাত্মক কৌশলের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। দ্রুত ও ব্যাপক অভিযান, অসমমিত যুদ্ধ এবং কঠোর সামরিক কৌশলকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের নাগালের মধ্যেই রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আমির আকরামিনিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আপস কিংবা যুদ্ধ—এই দুটির মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে।
আকরামিনিয়া বলেন, ‘মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আমাদের প্রবেশাধিকার সহজ, যা তাদের দুর্বলতা আরও বাড়িয়েছে। আমরা নিজেদের রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আপস অথবা যুদ্ধের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
ইরানের এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন এবং উচ্চপর্যায়ের কড়া বক্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র : মেহর নিউজ এজেন্সি
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর